সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিলের দাবি জানাল আল-হাইআতুল উলয়া

এবার জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনকে ‘ইসলামী শরিয়তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ আখ্যা দিয়ে আইনটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দেশের শীর্ষ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা অথরিটি আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।

সংস্থাটির স্থায়ী কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও দাতার জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তির ভোগ, দখল ও ব্যবহারের অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ রেখে আনা এই সংশোধনী ইসলামী শরিয়াহর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আজ শনিবার আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির এক সভায় এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসান।

সভায় জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট সংশোধনীর মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তি হেবা বা দান করার পরও দাতার জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ, ব্যবহার ও দখলের অধিকার সংরক্ষণের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। পিতা-মাতা ও সন্তান, দাদা-দাদি ও নাতি-নাতনি এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে। দাতার ভোগদখলের অধিকার নিবন্ধিত দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে বলেও সংশোধিত বিধানে বলা হয়েছে।স্থায়ী কমিটির সভায় বলা হয়, ইসলামী শরিয়ায় হেবা একটি স্বতন্ত্র সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতি। হেবা সম্পন্ন হওয়ার পর এর মালিকানা, দখল ও সংশ্লিষ্ট অধিকার শরিয়াহর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

কমিটির অভিমত, হেবা ও মিরাসের বিধান অভিন্ন নয়। হেবা দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পদ্ধতি। অন্যদিকে মিরাস কার্যকর হয় ব্যক্তির মৃত্যুর পর, যখন তার সম্পত্তি শরিয়াহ নির্ধারিত উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টিত হয়। এ দুই ব্যবস্থার মধ্যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করে এমন কোনো আইনগত কাঠামো তৈরি না করার পক্ষে মত দেয় কমিটি।

সভায় আলেম-ওলামা ও ইসলামী আইনজ্ঞদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত শরয়ি আপত্তির বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়। এর ভিত্তিতে স্থায়ী কমিটি সংশোধিত বিধানকে শরিয়াহবিরোধী হিসেবে অভিহিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনটি পুনর্বিবেচনা ও বাতিলের দাবি জানায়।

একই সঙ্গে মুসলমানদের হেবা, উত্তরাধিকার ও পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে দেশের আলেম-ওলামা ও ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় সভা থেকে।

আল-হাইআতুল উলয়া আশা প্রকাশ করেছে, সরকার সংশোধিত আইনটির শরয়ি ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় বিধান পালনের অধিকার ও পারিবারিক সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শরিয়াহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইনগত কাঠামো নিশ্চিত করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমানসহ সংস্থাটির স্থায়ী কমিটির অন্তর্ভুক্ত শীর্ষস্থানীয় আলেম ও মুফতিদের একটি বড় অংশ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top