আগামী ৬ অক্টোবরের বিধানসভা উপনির্বাচন। তার আগেই পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। আজ শনিবার তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের আমলে ব্যাপক অপরাধ ও তোলাবাজির কারণে রাজ্যের মানুষ ‘শ্বাসরুদ্ধ’ অবস্থায় ছিল। তাঁর দাবি, তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গকে ‘বাংলাদেশে’ পরিণত করতে চেয়েছিল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পাটনায় কথা বলার সময় গিরিরাজ সিং বলেন-রাজ্যের মানুষ এখন ভয় থেকে মুক্তি চাইছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেন।
গিরিরাজ সিং বলেন, ‘কী বলার আছে? কোনো দল নির্বাচনে লড়ুক বা স্বতন্ত্র প্রার্থী লড়ুক, সেখানকার মানুষ ভোট দেবেন। সেখানকার মানুষ এখন খোলা বাতাসে শ্বাস নিচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে মানুষের শ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। চারদিকে অপরাধ আর কাটমানি (চাঁদাবাজি) ছিল। মানুষ ভীত ও আতঙ্কিত ছিলেন। তারা পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশে পরিণত করতে চেয়েছিল। আজ শুভেন্দু অধিকারীজি এক উন্মুক্ত ‘রামরাজ্য’ তৈরি করেছেন, যেখানে মানুষ স্বস্তির শ্বাস নিতে পারছেন।’
সম্প্রতি বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচনে ‘কারচুপি’ এবং ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তোলায় লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কংগ্রেস নেতাকে ‘রোবট’ এবং তাঁর মনকে ‘দূষিত’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। গিরিরাজ বলেন, ‘আচ্ছা, আপনারা কি কখনো রাহুল গান্ধীকে ইতিবাচক কিছু বলতে দেখেছেন? কারণ তাঁর মনটাই দূষিত। আর রাহুল গান্ধী যতটা শেখানো হয়, ততটাই পড়েন। অর্থাৎ, আজকের বিজ্ঞানের যুগে একটি রোবট যেমন কাজ করে, তাকে যতটা খাওয়ানো হয়, সে ততটাই কথা বলে। তিনিও একজন রোবট। তিনি ততটাই পদক্ষেপ নেবেন, যতটা তাঁকে শেখানো হয়েছে, এবং ততটাই কথা বলবেন, যতটা তাঁকে বলা হয়েছে।’
কংগ্রেসের নিজস্ব রাজনৈতিক ইতিহাস এবং দলের একাধিক সাংগঠনিক বিভাজনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বিজেপির এই নেতা। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের শিকড় কংগ্রেসে রয়েছে।
গিরিরাজ বলেন, ‘তাই তিনি নিজেই জানেন না যে তাঁর মাতামহের সময় থেকে তাঁর দাদির সময় পর্যন্ত তাঁর নিজের দল কয়েক ডজন বার বিভক্ত হয়েছে। আজ তৃণমূল কংগ্রেসও তাদেরই সন্তান। কোন কংগ্রেস থেকে এটি এসেছে, তা আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই, তবে এটি কংগ্রেস থেকেই এসেছে। অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার আগে তাঁর নিজের দিকে তাকানো উচিত। তখন কি বিজেপি ছিল? তখন কি জনসংঘ ছিল? কেউ কি সেটিকে ভেঙেছিল?’
দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সময় নির্বাচনী প্রতীক ‘ফ্রিজ’ বা সাময়িকভাবে স্থগিত করার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন গিরিরাজ সিং। তিনি বলেন, এটি একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ব্যবস্থা। আপনার দলের দুটি গোষ্ঠী যদি নিজেদের আসল দল বলে দাবি করে-‘আমরাই আসল’, ‘আমরাই আসল’-এবং সেই অবস্থায় নির্বাচন করতে হয়, তাহলে তারা আপনাকে থামাতে পারে না। তাই প্রতীকটি ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। তারা তাদের স্বাভাবিক, মূল প্রতীকটি ফ্রিজ করে দিয়েছিল।’
গিরিরাজ সিংয়ের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যে নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে মূল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম এবং দলের ঐতিহ্যবাহী ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের প্রতীক ও দলের নাম স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে ‘স্বেচ্ছাচারী’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি দ্রুত ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে তাঁর গোষ্ঠীর প্রস্তুতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলছে।



