ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে অপহরণের ছয় দিন পর ব্যবসায়ী নয়ন দাসকে (২৬) উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে নাসিরনগরে আলোচিত বিষয় ছিল এই অপহরণের ঘটনা। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আলমের সহযোগিতায় ওসি (তদন্ত) এসআই এইচ এম জামিল খান পুলিশের একটি টিম নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করে ভিন্ন কৌশলে অভিযান পরিচালনা করেন। এতে অপহৃত যুবককে উদ্ধার এবং অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। এই সফল অভিযানের ফলে অপহৃত যুবকের পরিবারসহ পুরো উপজেলায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ পুলিশের এই সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করছেন। অনেকেই মনে করছেন, পুলিশের এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে নাসিরনগরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে যাবে। অভিযানের বিস্তারিত ওসি (তদন্ত) এসআই এইচ এম জামিল খান মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে নয়ন চন্দ্র দাস (২১) নাসিরনগরের ফান্দাউক বাজার থেকে অপহৃত হন। অপহরণকারীরা একটি হাইস মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও ব্যর্থ হলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রথমদিকে কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছিল না, কারণ ভিকটিম তার মোবাইল বন্ধুর কাছে রেখে গিয়েছিল। পরদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে অপহরণের খবর প্রকাশিত হলে ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে। নয়নের পরিবার জানায়, অপহরণকারীরা ফোন করে প্রথমে ৫০,০০০ টাকা বিকাশে পাঠাতে বলে। পরে আরও ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চাপ দিতে থাকে। এই বিকাশ লেনদেনের সূত্র ধরে পুলিশ তদন্তের গতিপথ নির্ধারণ করে। নাটকীয় অভিযানের পাঁচ দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ওবাইদুর রহমান ও ওসি খায়রুল আলমের তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালিত হয়। ওসি (তদন্ত) এইচ এম জামিল খান-এর নেতৃত্বে এসআই কুদ্দুস, এএসআই আল-আমিন, কনস্টেবল মান্নান এবং ভিকটিমের কাজিন বিকাশ—এই ছয় সদস্যের একটি টিম ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। প্রথমে তারা বিকাশ এজেন্টের দোকান শনাক্ত করে এবং দোকানমালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তবে তেমন কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। অপহরণকারীরা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় তাদের ধরা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। চতুর্থ দিনে অপহরণকারীরা নয়নকে নির্যাতন করে এবং ভিডিও ধারণ করে পুলিশের কাছে পাঠায়। পাঁচ দিনের টানা অভিযানের পর অবশেষে ঢাকার একটি পুরাতন ভবনের নিচতলার তালা ভেঙে নয়নকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই জামিল খান এবং তার দল দুইজন অপহরণকারীকে ঘুমন্ত অবস্থায় গ্রেপ্তার করেন। পরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সফল অভিযান ও প্রশংসা এই অভিযানে ব্যবহৃত হাইস মাইক্রোবাসটিও মুন্সীগঞ্জ থেকে জব্দ করা হয়। সব আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরে নয়নকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই সফল অভিযানের জন্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ওসি (তদন্ত) এইচ এম জামিল খান বলেন, “আমার টিমের প্রতিটি সদস্য ধৈর্য ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের নিঃস্বার্থ পরিশ্রমের ফলেই এই অভিযান সফল হয়েছে।” উল্লেখ্য, অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) এইচ এম জামিল খান ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা।