1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

বিশেষ চিহ্ন থাকলে দাড়াতে হবেনা লাইনে

সাব্বির হোসেন
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০২৫
  • ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সেবা কার্যক্রম দীর্ঘ নয় মাস পর গত ৪ এপ্রিল সকাল থেকে শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই পাসপোর্ট সেবা নিতে দেখা গিয়েছে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। দীর্ঘ নয়মাস পরে পুনরায় পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু হওয়ায় অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তবে বিশেষ   চিহ্ন না থালেই পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে আর বিশেষ চিহ্ন থাকলে দাড়তে হচ্ছে না লাইনে!

গত বছরের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে যায় নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। এ আগুনে পাঁচ হাজারেরও বেশি তৈরি পাসপোর্ট, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন লুটপাটও করা হয়েছিল।

এরপর থেকে এ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা প্রদান বন্ধ থাকলেও গত কয়েকমাস নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দাদের তিনভাগে ভাগ করে কেরাণীগঞ্জ, নরসিংদী ও মুন্সীগঞ্জ অফিস থেকে সেবা চালু রাখা হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এখন নিজ জেলার অফিসেই স্বাভাবিকভাবে সেবা পাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জবাসী।

সংস্কার শেষে নয় মাস পর এ কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় শুরু দিন সকাল থেকেই ছিল সেবা প্রত্যাশীদের ভিড়। তবে পুনরায় নতুন রূপে শুরু হলেও ভোগান্তি রয়েগেছে আগের মতোই। বিশেষ এক চিহ্ন ছাড়া মিলছেনা কাঙ্খিত সেবা। এক রুম থেকে ঘুরতে হচ্ছে অন্য রুম। সব কিছু ঠিক থাকার পরেও এমন ভোগান্তিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবা নিতে আসা সেবাগ্রহীতারা।

গতকাল ৮ই মে সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়, পাসপোর্ট অফিসের বাহির থেকে ভিতর অব্দি লম্বা লাইন। একটু সামনে এগোতেই সোনারগাঁ থেকে পাসপোর্ট করতে আসা রুহুল আমিন নামের এক যুবক বলতে শুরু করে যে, সকাল ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি এখন পর্যন্ত আমার কাগজপত্র গুলো জমা দিতে পারছিনা কিন্তু কিছুক্ষণ পর,পর কয়েকজন লোক আসে এবং ভিতরে যায় কাগজপত্র জমা দিয়ে বের হয়েযায় কিন্তু আমরা লাইনেই দাঁড়িয়ে আছি। তার এমন কথা শুনে তাকে প্রশ্ন করলাম লাইন ছাড়া কিভাবে কাগজপত্র ভিতরে জমা দিলো? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে রুহুল আমিন উত্তর দিলো,তাদের বিশেষ কিছু লোক আছে এবং কাগজে বিশেষ চিহ্ন থাকে তাই তাদের লাইনে দাড়াতে হয় না তারা সরাসরি ভিতরে গিয়ে সব কিছু জমা দিয়ে চলে আসে।

রুহুল আমিনের সাথে কথা বলে সামনে যেতেই রুহুল আমিনের মতো এমন অভিযোগে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন পাসপোর্ট অফিসের নীচতলায়। পাসপোর্ট অফিসের সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতেই শোনা গেলো একজন সেবাগ্রহীতার চেঁচামেচি। তিনি চিৎকার করে বলছেন আজকে দাদাল ধরতে পারিনি বলে সকাল থেকে এমন শাস্তি পেতে হচ্ছে। তার এমন কথা শুনে প্রতিবেদক তাকে প্রশ্ন করলো আপনার সমস্যা কি? উত্তরে তিনি বলেন আমি নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাসিন্দা আমি দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ ওমানে প্রবাস জীবন যাপন করছি। আমার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়াতে দেশে এসেছি নতুন করে নবায়ন করার জন্য। দেশে আসার আগে ভেবেছিলাম এখন মনে হয়ে আর দেশে অনিয়ম আর দুর্নিতি নামক শব্দটি আমাদের দেশে নাই। তবে এখন মনে হচ্ছে আমার চিন্তা চেতনা সম্পূর্ণ ভুল। আমার সব কাগজ পত্র সঠিক থাকার পরেও এখন তারা আমার কাবিন নামা চাইছেন এই কাবিন নামার জন্য আমার কাগজগুলো জমা নিচ্ছেন না। আমার জানা মতে পাসপোর্ট নবায়ন করতে কাবিন নামার প্রয়োজন হয়না তারা অযথা আমাকে সকাল থেকে হয়রানি করছে।

তিনি আরও বলেন, আমি দেশের একজন নাগরিক হিসেবে এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও উর্ধতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই এই অনিয়ম থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার ব্যবস্থা করুন।

এই বিষয়ে পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মো. জালাম হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা এমন কোন কর্মকান্ড হাতে নাতে ধরতে পারলে অবশ্যই আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com