1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

তামাক চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে ফসলী মাঠ

মোতাহার হোসেন
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ২২৫ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় হঠাৎ করে তামাক চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় হুমকির মুখে পড়ছে ফসলী মাঠসহ জনস্বাস্থ্য। কয়েক বছর থেকে দিন দিন তামাকের চাষাবাদ বাড়ছে এমন দাবী অনেক কৃষকের। আবাদী মাঠে রবি শস্যের পরিবর্তে এখন অনেকে করছেন বিষ পাতা তামাকের চাষ। একসময় যেসব আবাদি জমিতে ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, আলু, পটলসহ বিভিন্ন রবি শস্যচাষাবাদ করা হতো। এখন সেসব জমিতে অধিক মুনাফার আশায় তামাক চাষ করছেন অনেক কৃষক। ফলে এ অঞ্চলের কৃষি ক্ষেত্র তামাকের বিষে উর্বরতা হারিয়ে নীল হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুকির আশংকা।তামাকের বিষ কেবল চাষকৃত জমিই গ্রাস করে না, বরং বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী জমিতেও।

ফলে দীর্ঘ মেয়াদে উর্বরতা হারায় পার্শ্ববর্তী জমির মাটি, হ্রাস পায় ফলন। তাই হঠাৎ করে উপজেলার বেশকিছু এলাকায় তামাক চাষ বৃদ্ধির বিষয়টি পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদেরকেও চিন্তায় ফেলেছে। তবে কৃষি বিভাগের দাবি গত বছরের তুলনায় চলতি বছর তামাক চাষ কমেছে। তথ্যমতে মিঠাপুকুর উপজেলায় ২০২১-২২ মৌসুমে ৪০ হেক্টর, ২০২২-২৩ মৌসুমে ৩২ হেক্টর এবং ২০২৩-২৪ চলতি মৌসুমে ২১ হেক্টর জমিতে তামাকের চাষ হয়েছে। উপজেলার মির্জাপুর ও বালারহাট ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশের জমি এবং বসতবাড়ির পাশেই অবাধেই বিষপাতা তামাক চাষাবাদ করা হয়েছে। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও বেশকিছু জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। এই জমিগুলোতেই আগে ধান-ভুট্টা ও সবজি চাষ হতো। কিš‘ কিছু দেশি-বিদেশি সিগারেট কোম্পানির প্রলোভনে পড়ে তামাক চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে,তামাক চাষে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষক ও তার পরিবারের সদস্যরাও স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। স্থানীয় তামাক চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জমিতে খাদ্যশস্য চাষাবাদ করে খুব বেশি লাভ হয় না। তামাক চাষ করতে বীজ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ প্রতি বিঘা জমিতে মোট ব্যয় হয় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা, লোকসানের কোনো আশঙ্কা নেই। এ কারনেই চাষিরা তামাক চাষের দিকে ঝুঁকছে। তবে, প্রয়োজনীয় সরকারি প্রণোদনা এবং সহজে কৃষি লোন পেলে তামাক চাষ ছেড়ে খাদ্যশস্য চাষাবাদ করার কথা জানায় কৃষকরা। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের কৃষি প্রণোদনা এবং সহজে কৃষি লোন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় এ অঞ্চলের প্রকৃত কৃষকরা। প্রণোদনা ও লোন পায় বিভিন্ন নেতা ও কর্মকর্তাদের পছন্দের লোকজন। এমনকি প্রশিক্ষণ থেকেও বঞ্চিত প্রকৃত কৃষক। মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক মেডিকেল অফিসার আবদুল হালিম লাবলু বলেন, তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবহারের ফলে মুখে ক্যানসার, উ”চ রক্তচাপ, ব্রেন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক হওয়ার মতো ঝুঁকিও থাকে। এ ছাড়াও যে এলাকায় তামাক চাষ হয়, তার আশপাশের মানুষেরও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আবেদীন বলেন, তামাক চাষের বিষয়ে আরও সুস্পষ্ট আইন করা দরকার। আমরা কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনার আওতায় নিয়ে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করছি। ইউএনও স্যার, ওসিসহ বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে একটি কমিটি করে তামাক চাষ বন্ধ করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তামাক চাষিদের নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছি। বিভিন্ন সিগারেট কোম্পানির লোভনীয় অফারে কিছু কিছু কৃষক না বুঝেই তামাক চাষ করেছেন। সুস্পষ্ট আইন না থাকায় কৃষকদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করা ছাড়া কিছুই করার নেই কৃষি কর্মকর্তাদের।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com