1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী ধামইরহাটে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন সাতক্ষীরার কলারোয়ার পুত্রবধূ তুলি বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সমাবেশ অনুষ্ঠিত পুলিশের বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় ২৭ আসামি গ্রেফতার মাদারীপুর শিবচরে তেলবাহী ট্রাক ডাকাতি মামলায় দুইজন গ্রেফতার জ্বালানি পেতে সেচ পাম্প নিয়ে ফিলিং স্টেশনে কৃষকের ভিড় মাদারীপুরে বেকারিকে নিরাপদ খাদ্য আইনে এক লাখ টাকা জরিমানা কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টার এখন ‘মৃত্যুফাঁদ’: ঝুঁকিতে চিকিৎসক-নার্স, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। মানিকগেঞ্জ নব নিযুক্ত জেলা পরিষদের প্রশাসকের সাথে হরিরামপুর প্রেসক্লাবের মত বিনিময়

অদৃশ্য নায়করা: ক্যান্সার চিকিৎসার প্রান্তরে বাংলাদেশের মেডিকেল ফিজিসিস্টদের সংকট

মোঃ আবদুল্লাহ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮৪ বার পড়া হয়েছে
বিশ্ব রেডিওথেরাপি সচেতনতা দিবসের প্রেক্ষাপটে উদ্ভাসিত হলো রেডিওথেরাপিতে দক্ষ জনবলহীনতার চরম বাস্তবতা—যন্ত্র আছে, কিন্তু ব্যবহার নেই।
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে বিশ্ব রেডিওথেরাপি সচেতনতা দিবস (World Radiotherapy Awareness Day – WRAD)। এ দিনে শুধু রেডিওথেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে না, বরং ক্যান্সার চিকিৎসায় বাংলাদেশের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘাটতিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় অর্ধেকের জন্য রেডিওথেরাপি অপরিহার্য। এটি কেবল রোগ নিরাময়ের একটি পদ্ধতি নয়, বরং বহু রোগীর জীবনের রক্ষাকবচ। উচ্চ শক্তির বিকিরণ ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়, তবে এ সময় সুস্থ কোষ রক্ষার সূক্ষ্ম কৌশল প্রয়োজন। এবং এই সূক্ষ্ম কাজের নেতৃত্ব দেন চিকিৎসা পদার্থবিদ বা মেডিকেল ফিজিসিস্টরা।
২০১৮ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল ফিজিসিস্ট সোসাইটির (BMPS) দীর্ঘ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সরকারি চারটি হাসপাতালে ১২টি মেডিকেল ফিজিসিস্ট পদ তৈরি করা হয়। কিন্তু সাত বছর পেরিয়ে গেলেও একটিও পদে নিয়োগ হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগে আনা আধুনিক রেডিওথেরাপি যন্ত্রগুলো বিশেষজ্ঞের অভাবে বা ব্যবহার হয়নি, বা সীমিত ব্যবহারে রয়েছে। রোগীরা ঠিক সময়ে এবং সঠিকভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে যেখানে মেডিকেল ফিজিসিস্ট নিয়মিত থাকেন, সেখানে যন্ত্রগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে এই অভাব পুরো সিস্টেমকে ভঙ্গুর করে তুলেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় রেডিওথেরাপি সেবার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারে নীচে—এটি কেবল পরিসংখ্যান নয়, রোগীদের জন্য বাস্তব সমস্যা।
চিকিৎসা পদার্থবিদদের কাজ সীমাবদ্ধ নয় শুধু যন্ত্র পরিচালনায়। তারা নির্ধারণ করেন সঠিক বিকিরণ ডোজ, তৈরি করেন চিকিৎসা পরিকল্পনা, যাচাই করেন যন্ত্রের কার্যকারিতা, নিশ্চিত করেন রেডিয়েশন সুরক্ষা, এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেন।
অধ্যাপক মো: মোখলেছুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক, মেডিকেল ফিজিক্স ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, গণ বিশ্ববিদ্যালয় বলেন,
“যদি চিকিৎসা পদার্থবিদ থাকত, তাহলে এই যন্ত্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার করা যেত। রোগীরাও পেত নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা। কিন্তু বিশেষজ্ঞহীনতা রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে।”
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা প্রায়ই কাগজপত্র, প্রশাসনিক বাধা বা চেকলিস্টের কথা বলেন। কিন্তু এর ব্যয় বহন করতে হয় রোগীদের। চিকিৎসা পদার্থবিদ ছাড়া যেকোনো রেডিওথেরাপি বিভাগ কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এটি কেবল অবহেলা নয়, বরং রোগীর জীবনের সঙ্গে অবিচার।
দিবসের স্লোগান “Radiotherapy is care, trust, and standing beside patients” কেবল শব্দ নয়, এটি একটি বাস্তবতা। প্রতিটি রোগীর অধিকার আছে নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়ার। কিন্তু বাংলাদেশে মেডিকেল ফিজিসিস্টদের নিয়োগহীনতা সেই অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিশ্ব রেডিওথেরাপি সচেতনতা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই শুধুই যন্ত্রের নয়, দক্ষ জনবলও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মেডিকেল ফিজিসিস্টদের ছাড়া এই লড়াই জেতা সম্ভব নয়। তাই এখনই প্রয়োজন দ্রুত পদে নিয়োগ, কার্যকর উদ্যোগ এবং সমান চিকিৎসা নিশ্চয়তা।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com