কোন ধরনের তৈরীকৃত খাবার ছাড়াই প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মাছ চাষে সফল বরগুনা সদর উপজেলার গোলবুনিয়া গ্রামের মো: রফিক কাজী। নদী ও সাগরের পানির সাথে মাছের ঘেরের সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সামুদ্রিকসহ না প্রজাতির মাছ চাষ করছেন তিনি। এতে খরচ বাদে বছরে অন্তত ১৫ লাখ টাকা আয় করেন রফিক কাজী। ২০২৩ সালে জেলায় সেরা মৎস্যচাষী নির্বাচিত হয়েছেন রফিক কাজী। রফিক কাজী জানান, ১৯৯১ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত কক্সবাজারে একটি বাগদা চিংড়ির ঘেরে চাকুরি করতেন তিনি। এরপর দেশে ফিরে মৎস্য পেশায় নিয়োজিত হন। পর্যায়ক্রমে জেলার পায়রা (বুড়িশ্বর) নদী সংলগ্ন গোলবুনিয়া ও লবনগোলা এলাকায় ৩৭ একর জমি নিয়ে একটি এবং ৪ একর জমি নিয়ে দুটি মাছের ঘের করে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন। স্লুইজগেটের মাধ্যমে নদীর সাথে সংযোগ স্থাপন করে প্রাকৃতিক খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। আর এতেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বড় হচ্ছে। এসব ঘেরে নদীর পাঙ্গাস, আইড়, চিংড়ী, রুই, কাতলা, মৃঘা, কোড়াল সহ নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ চাষ করা হয়। রফিক কাজী আরও জানান, ৩টি ঘের তৈরী করতে ৪৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখান থেকে প্রতি বছর অন্তত ২৫ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেন। তবে কর্মচারী বেতনসহ নানা খরচ বাদ দিয়ে বছরে অন্তত ১৫ লাখ টাকা তিনি আয় করেন। রফিক কাজী বলেন, আস্তে আস্তে দেশে সামুদ্রিক ও দেশীয় প্রজাতির মাছ কমে যাচ্ছে। এসব মাছের ঘাটতি কমাতে মানুষ বাজার থেকে খাবার কিনে মাছ চাষ করছে। যা স্বাস্থ্যসম্মত না এবং সব মানুষ কিনতেও চায়না। যদিও এতে অনেকে বেশি লাভবানও হচ্ছেন। তবে আমি মানুষকে বিষমুক্ত মাছ খাওয়ানের উদ্দেশ্যেই প্রাকৃতি উপায়ে মাছ চাষ করছি এবং তাতে সফলও হয়েছি। গোলবুনিয়া এলাকার মো: আল-আমিন বলেন, রফিক কাজীর প্রাকৃতিক উপায়ে মৎস্য চাষ দেখে এখন অনেকেই এমন পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন। বরগুনা সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার বলেন, রফিক কাজীর মৎস্য চাষ পদ্ধতি অবশ্যই প্রশংসনীয় এবং স্বাস্থ্যসম্মত উদ্যোগ। তিনি যাতে আরও লাভবান হতে পারেন সেজন্য আমরা তাকে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি।