1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ব্যর্থতায় দেশ অনেকটা পিছিয়ে আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আইনের শাসনই শেষ কথা নয়, অপরাধ দমনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী কাল থেকে শুরু এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, অংশ নেবে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৬৫ মাদারীপুরে বিজ্ঞান মেলা উদ্বোধন করলেন এমপি জাহান্দার জীবননগরে ঘুমন্ত অবস্থায় গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা প্রবাসী রাজনে বিরুদ্ধে মামলা খুলনা বিএনএসবি হাসপাতাল ( চক্ষু হাসপাতাল) ট্রাস্টি বোর্ডের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন গৌরনদীতে ‘দারসুল কুরআন সুন্নাহ্ ফাউন্ডেশন’ আত্মপ্রকাশ: দ্বীনের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছানোর প্রত্যয় নেত্রকোনায় উৎসব মুখর পরিবেশে মেছুয়া বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন

বরগুনায় বনোজ সম্পদ ধ্বংস করে লোকালয় স্থাপন

মোঃ সাইফুর রহমান সজীব
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ২৫৬ বার পড়া হয়েছে
দুর্যোগ প্রবণ বরগুনা জেলার উপকূলীয় বাসিন্দাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াল থাবায় রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে ম্যানগ্রোভ বাগান। হরিণঘাটার সেই ম্যানগ্রোভ বাগান নির্বিচারে ধ্বংস করছে ভূমি ও বনখেকোরা। একরের পর একর বনের গাছ কেটে গড়ে তুলছে ঘরবাড়ি ও তৈরি করছে মাছের ঘের। স্থানীয় প্রভাবশালী ও কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই সংরক্ষিত এ বনের গাছ কাটছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মা এলাকার হরিণঘাটা সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনের গাছ কেটে নতুন করে অন্তত ১৫টি পরিবার জায়গা দখল করে গড়ে তুলছে ঘরবাড়িসহ মাছের ঘের, চাষাবাদের জন্য কৃষি জমি।
এর আগে ২০১৩ সালে বনের ওই অংশের গাছ কেটে ৩৫টি পরিবার বনের অন্তত ৯ একর জমি দখলে নিয়ে সেখানে ঘরবাড়ি তুলে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে সেই সংখ্যাটি বেড়ে এখন প্রায় শতাধিক হয়েছে। তৎকালীন সময়ে সময় বন বিভাগের পক্ষ থেকে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে আজও উচ্ছেদের কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিবারগুলো এখন তাদের জমির আয়তন বাড়াতে বনের গাছ কেটে পুনরায় দখল প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আর বন বিভাগ বলছে, জনবলের অভাবে সব সময় খোঁজখবর রাখা যায় না, দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে তারা বনকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করে।
ওই একই গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম প্যাদা বলেন, বেড়িবাঁধের পাশে থাকত এরা। আস্তে আস্তে দেখতেছি বনের গাছ কেটে জমির আয়তন বাড়াচ্ছে, আমরা অনেকেই বন বিভাগকে জানাইছি অথচ তারা বলছে আমরা দেখতেছি বাস্তবে তারা কিছুই দেখে না, গাছের একটি ঢাল কাটলেও তাদের কম বেশি টাকা দিতে হয় অথচ এখানে তো বন উজাড় করে জমি দখলে দেওয়া হইছে।
পাথরঘাটা প্রেস কাবের সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল বলেন, যে বন আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে, আর সেই বনের গাছ কেটে জমি দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করছে অথচ বন বিভাগ বলছে- আমরা তো কিছুই দেখছি না। এই বনদস্যুদের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কারণেই এই দখলদারদের থামানো যাচ্ছে না।
পাথরঘাটার হরিণঘাটা বিট কর্মকর্তা, আব্দুল হাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে বন বিভাগকে ম্যানেজ করার বিষয় জানতে চাইলে বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। তারা নিজেরা বাঁচার জন্য এবং আমাদের ফাঁসানোর জন্য এই কথাগুলো বলছে। এখানে দখলদাররা যত বড় ক্ষমতার অধিকারী হোক না কেন আমরা তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) সফিকুল ইসলাম জানান, নতুন করে বন বিভাগের যে জমি দখল করা হয়েছিল বিষয়টি জানতে পেরে আমরা দখলকৃত জমি উদ্ধার করেছি এবং বন উজাড় করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে বনসংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর সাথে বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই বিভাগীয় কর্মকর্তা।
১৯৬৭ সাল থেকে বন বিভাগের সম্প্রসারণে নানা প্রজাতির গাছ রোপণের মাধ্যমে বনটি সৃষ্টি করা হয়। বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার একরজুড়ে দৃষ্টিনন্দন এ বনে কেওড়া, গেওয়া, পশুরসহ সুন্দরী ও ঝাউবন রয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এখানে ২০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে বনায়ন করা হয়। এ ছাড়া সাগর তীরে লালদিয়ার চরে নতুন বন হওয়ায় পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। এটি এখন বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com