1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মিঠাপুকুরে উপজেলা নাগরিক ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নন্দীগ্রামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে ডিবির অভিযানে তিন নারী ১৭ পিস ইয়াবাসহ আটক ভাঙ্গুড়ায় এমআর টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত নিখোঁজের একদিন পর ইটভাটার পুকুরে ভেসে উঠেছে কিশোরীর মরদেহ স্বাধীনতা পদক গ্রহণ করলেন হানিফ সংকেত মুঘল সম্রাট বাবরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তুলনা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেলে কার্ডে অনিয়ম ও ভুয়া সাংবাদিকতার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে জেলেদের মানববন্ধন সাতক্ষীরায় মোজাহেরের তেলের পাম্পে তীব্র জ্বালানি সংকট, ভোগান্তিতে বাস মালিক ও যাত্রীরা

ভাঙ্গায় পেঁয়াজ বীজে স্বপ্ন দুল়ছে কৃষকদের

নাজিম বকাউল
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১১ মার্চ, ২০২৪
  • ৪৪১ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাঠে মাঠে  এখন পেঁয়াজ বীজের সমারোহ। সাদা ফুলের মিষ্টি সুবাসে মৌমাছি আর পাখির মিতালীতে পল্লী প্রকৃতি যেন হাসছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে হাজার কদম ফুল কিংবা হাজারো তারার মেলা।
এ দৃশ্য এখন এ জনপদের মাঠে মাঠে।  সাদা পেয়াজ ফুলের মধ্যে লুকিয়ে আছে কালো সোনা,যেন কৃষকদের স্বপ্ন দুলছে।  এ পেঁয়াজ বীজ আবাদ করে এলাকার কৃষকদের  হয়েছে ভাগ্য বদল । এলাকায় কালো সোনা খ্যাত এ বীজের আবাদ করে অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। এ বছর পেঁয়াজ ও বীজের আকাশচুম্বী দাম কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে বাড়তি আগ্রহ । আর এ বীজের আবাদ করে কৃষকরা হয়ে উঠছেন স্বাবলম্বী ।  চলতি বছর রেকর্ড পরিমান পেঁয়াজ বীজের আবাদ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,এ বছর ৪,শ ৪৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ করা হয়েছে। পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন ভান্ডার খ্যাত ভাঙ্গা উপজেলায় এ বছর ৪,শ ৩০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদের লক্ষমাত্রা ছিল । এ বছর ভাল আবহাওয়া,সুষ্ঠ পরিচর্যা,কৃষি বিভাগের পরামর্শ,উন্নত জাতের বীজ,সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগের ফলে  এ বছর পেঁয়াজ বীজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে এ বছর পেঁয়াজের আকাশচুম্বী দাম  এবং পেঁয়াজ বীজের ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকদের পেঁয়াজ চাষের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করেছে। সে কারণে এ ফসলের বীজ যেন কৃষকের কাছে সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। এলাকার বড় উদ্যোক্তা এবং তরুনরাও এ বীজ চাষে ঝুকে পড়েছেন। এলাকার বিস্তির্ণ মাঠ ভরে উঠেছে পেঁয়াজ ফুলে। সাদা ফুলের মাঝে এই কালো সোনাতেই কৃষকরা আগামীর স্বপ্ন বুনছেন। লাভ বেশি হওয়ার কারণে দিন দিন পেঁয়াজের বীজ চাষ বাড়ছে।
সরেজমিনে গেলে এলাকার কতিপয়  কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে এ বীজ আবাদে খরচ পড়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে ৩ থেকে ৪ মন পর্যন্ত বীজ উৎপন্ন হয়। এ বছর এ বীজ বিক্রি হয়েছে মন প্রতি দেড় খেকে ২ লক্ষ টাকা টাকা পর্যন্ত।তারা আরো  জানান,এ বছর বীজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ জন্য বেজায় খুশি এলাকার কৃষকরা। এ বছরও ভাল দামের আশা করছেন তারা।উপজেলার  সাউতিকান্দা গ্রামের পেঁয়াজ বীজ চাষী শাহজাহান   জানান,তিনি এ বছর ১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদ করেছেন। গত বছর সফলতার পর এ বছরও  চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
একই এলাকার কৃষক- শান্ত শেখ, সোবাহান মাতুব্বর জানান,তারা গত বছর পেঁয়াজ বীজের ভাল উৎপাদন এবং দাম ভালো পাওয়ায় চলতি মৌসুমে চাষ বৃদ্ধি করেছেন। অপরদিকে এলাকার চৌকিঘাটা গ্রামের পেঁয়াজ বীজ চাষী শাহ আলম জানান তিনিও এ বছর পেঁয়াজ বীজ চাষে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন। এ ব্যাপারে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  জীবাংসু দাস জানান,পেয়াজ বীজ কালো সোনা নামে খ্যাত। ভাঙ্গা উপজেলায় এ বছর ৪,শ ৪০ হেক্টর জমিতে পেয়াজ বীজ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা থাকলেও  ৪,শ ৪৫ হেক্টর জমিতে পেয়াজ বীজের চাষাবাদ করা হয়েছে। কৃষকরা ফসলটি করে লাভবান হন বিধায় তারা এ বছর উৎপাদনও বাড়িয়েছে। সেই সাথে আমরা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সার্বক্ষনিক উৎপাদন কৌশল,রোগ,পোকামাকড় দমন এবং সেচ,সেচ ব্যবস্থাপনা অন্যান্য আন্তঃপরিচর্যা বিষয়ে তাদের আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকতার্রা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে আছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে উৎপাদন প্রত্যাশা মাফিক হবে।এলাকার কৃষি সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা পেঁয়াজ বীজের উৎপাদনের মাধ্যমে এলাকার কৃষকরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com