লক্ষ্মীপুরে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে এক যুবকের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান। শনিবার (৬ এপ্রিল) চাকরি না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে হাফিজ উল্লাহ । এসময় তার চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৯ নং কুশাখালী ইউনিয়নে। অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন মানিক সদর উপজেলার ১৮ নং কুশাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
ভুক্তভোগী যুবক ওই ইউনিয়নের নলডগি গ্রামের রিক্সা চালক সেকান্তর মিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী হাফিজ উল্লাহ বলেন, চেয়ারম্যান আমাকে গ্রাম পুলিশের (চৌকিদার) চাকরি দিবে বলে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করে। ওনার কথায় আমি গরু চাগল বিক্রি করে রিন নিয়ে দেড় লাখ টাকা দিয়েছি। একই সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতা সহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র দিয়েছিলাম। কিন্তু ওনি আমাকে চাকরি দেয়নি। আজ জানতে পারলাম ওনি আমার আবেদনই করেনি। উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে তিনি আজকের পরীক্ষা কার্যক্রম বাতিল করা হবে বলে জানিয়ে চলে যান।
হাফিজ উল্লাহ আরও বলেন, আমার ব্যবহৃত অটোরিকশা ও গরু বিক্রি এবং ঋণ নিয়ে চেয়ারম্যানকে টাকাগুলো দিয়েছি। এখন আমার চাকরি হয়নি। আমি এলাকা যাবো কিভাবে। এলাকায় গেলে ঋণের টাকার জন্য মানুষ চাপ দিবে। কিভাবে তাদের টাকা দিবো। আমি এই অনিয়মের নিয়োগ বাতিল চাই। আমার টাকা ফেরত চাই। তবে বিষয়টির সত্যতা জানতে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন মানিককে বার বার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ ফেলে সে যে হোক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, শনিবার (৬ এপ্রিল) সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৬জনের বিপরীতে পরীক্ষায় ৪৩জন অংশ নেয়।