1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

সাঘাটায় ঘুরছে ভাগ্যের চাকা ৪ হাজার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত

মোঃ মাছিদুল ইসলাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫
  • ২২৭ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া রেলওয়ে পাওয়ার হাউস মাঠে হস্ত কুটির শিল্প পণ্য ও পাটবস্ত্র মেলায় প্রবেশ টিকিটের বিপরীতে লটারি নামের একটি অভিনব প্রতারণার কায়দায় ফেলে ভাগ্য পরীক্ষা চলছে। অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন মহলকে রীতিমতো উৎকোচ প্রদান ও বেকার যুব সমাজকে কর্মবিমুখ করে যত্রতত্র মেলার টিকিট বিক্রির জন্য উদ্বুদ্ধ করে পরিচালনা করা হচ্ছে মেলা নামক লটারির র‍্যাফেল ড্র। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, জাহাঙ্গীর নামের জনৈক ব্যক্তি এ মেলাটি জে.বি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড লাইসেন্সের বিপরীতে সুকৌশলে পরিচালনা করছে। এদিকে, চলতি বছরের আগামী ১০ই এপ্রিল থেকে সারাদেশে এস.এস.সি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সাঘাটা উপজেলায় ৮টি কেন্দ্রে এস.এস.সি বা সমমান পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বমোট ৩ হাজার ৯শ ৫২ জন। একইভাবে পাশের উপজেলা গোবিন্দগঞ্জেও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম নয়। আকর্ষণীয় গান বাজনা ও লোভনীয় অফার দেখিয়ে টিকিট বিক্রি করায় কোমলমতি এ দুই উপজেলার শিক্ষার্থীদের মেলার ব্যাপক অংশ জুড়ে অযাচিত ঘোরাঘুরি লক্ষ্য করা যায়। একদিকে মেলা চলমান অন্যদিকে পরীক্ষার্থীদের আসন্ন এস.এস.সি বা সমমান পরীক্ষা। যেকারণে পরীক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে আটকে রাখা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে একাধিক অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়। সচেতন অভিভাবক মহলে মেলা চলমান থাকায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং সন্তানদের সু ফলাফল নিয়েও ব্যাপক দুশ্চিন্তার জন্ম হয়েছে তাদের মনে। এছাড়াও মেলা পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে ক’জন ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, হস্ত কুটির শিল্প পণ্য ও পাটবস্ত্র নামে এ মেলায় স্থানীয়দের কোনো পণ্য নেই। সিংহভাগই বাহিরের পণ্য। শুধু তাই নয়, মেলা চলায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গেল ঈদে তেমন কোনো লাভবান হতে পারে নি বলে অভিযোগ অনেকের। সরেজমিন মেলার পরিচালক জাহাঙ্গীরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, অনুমোদন নিয়ে মেলাটি পরিচালনা করছেন। এ বিষয়ে সাঘাটার নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মোঃ আল কামাহ তমালকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও ফোন রিসিভ করেননি। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এভাবে মেলা চলতে থাকলে আর এজন্য পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায় কার? স্থানীয়দের দাবি, মেলার নামে এই লটারি ও অপ্রয়োজনীয় আয়োজন বন্ধ করা হোক, যাতে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে না পড়ে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com