ঈশ্বরদীর জয়নগর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বসতবাড়িতে পরিকল্পিত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ (৩০) ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নূর মোহাম্মদ তার পিতা মো. ছোরহাব আলীসহ মোট ১২ জন যৌথভাবে ২০২৪ সালের ১৫ মে দলিল নং-২৫১৯ ও ২৫২০ মূলে উপজেলার জয়নগর মৌজার আরএস খতিয়ান নং-১৯৯ এবং দাগ নং-২৯৩৪-এর মোট ০.০৮২৫ একর জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে জমিটি নিয়ম অনুযায়ী খারিজ করে খাজনা পরিশোধ করা হয় এবং সেখানে বসবাসের উদ্দেশ্যে একটি আধা-পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়।
তবে অভিযোগে বলা হয়, জমির মালিকরা স্থানীয় না হওয়ায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। ধারাবাহিক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে বাড়িটি বর্তমানে প্রায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৩ মে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাড়িতে রঙের কাজ চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। অভিযুক্তদের মধ্যে সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের মৃত মাহির উদ্দিনের ছেলে মো. মোখলেছ (৫০), চরমিরকামারী গ্রামের আব্দুল বারী প্রামাণিকের ছেলে মো. তারিকুল (৪৮) ও মো. জহুরুল ইসলাম (৫২) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন এতে জড়িত ছিল বলে দাবি করা হয়।
হামলাকারীরা বাড়ির সামনে এসে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে, লাঠিসোটা নিয়ে মারমুখী আচরণ করে এবং চলমান কাজ বন্ধ করে দেয়। এ সময় তারা ঘরে প্রবেশ করে প্রায় ২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এদিকে গত শুক্রবার (২৭ মার্চ’২৬) সকালে একই চক্র পুনরায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় বাড়ির দরজা-জানালা ও দেয়াল ভেঙে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। বাড়ির সাবমারসিবল পানির পাম্প খুলে নেওয়ার পাশাপাশি প্রধান দেয়ালও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার পর ঘটনাস্থলে লাল ফিতা ও পতাকা টানিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে হামলাকারীরা চলে যায়। এতে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জমিটি অবৈধভাবে দখল করার চেষ্টা করছে। তারা জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত তিনবার থানায় এবং একবার এসিল্যান্ড (ভূমি) অফিসে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো ফল হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা একাধিকবার শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে এবং নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ভুক্তভোগীরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। পাশাপাশি তারা যেন নিজ বসতবাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. মোখলেছ মুঠোফোনে বলেন, “আমাদের জমি অন্যরা জোরপূর্বক দখল করে বিক্রি করেছে। আমরা সেই জমি দখলমুক্ত করে অন্যের কাছে বিক্রি করেছি।” এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোঃ আব্দুল কুদ্দুস