মোঃ আলী আমজাদ, সিনিয়র শিক্ষক গন্ডা-দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, কেন্দুয়া, নেত্রকোণা। ত্রিশ বছর ৫ মাসের টগবগে যুবক হিসাবে শিক্ষকতায় যোগদান করেন ১৯৯৪ সালের ৮ই আগস্ট।
তারপর আর পিছনে ফিরে তাকানো হয়নি। নিরবিচ্ছিন্নভাবে ২৯ বছর ৬ মাস ২৫ দিন শিক্ষকতা করে এই দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনের ইতি টানছেন আগামী কাল। ২ মার্চ ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ায় বিধি মোতাবেক অবসরে যাচ্ছেন এই গুনী শিক্ষক, গন্ডা-দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়কে বিদায় জানাতে হচ্ছে দীর্ঘ দিনের সহকর্মী, এক দক্ষ শিক্ষককে।
আমজাদ স্যার আমাদের কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৪ এ কক্ষ প্রত্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গতকাল কৃষি বিষয়ের পরীক্ষার শেষে জানালেন আজ ২৯ ফেব্রুয়ারী তার শেষ কর্মদিবস, আর কোন পরীক্ষায় তাকে দেখা যাবে না। শনিবার ২ মার্চ অবসরে যাচ্ছেন। কিছুক্ষণের জন্য একটু স্তম্বিত হয়ে গেলাম। স্যারের সাথে জয়হরি কেন্দ্রে জেএসসি -এসএসসি ডিউটি করেছি। অমায়িক আর সহযোগী, সহনশীল একজন মানুষ। আর তাঁকে পাওয়া যাবেনা কোন শ্রেণিতে, কোন পরীক্ষা কেন্দ্রে এমনকি শিক্ষকতার কোন প্রয়োজনে।
আমার সামনে বসিয়ে সামান্য কথা হলো, স্যারকে শুভকামনা, কৃতজ্ঞতা জানালাম। কেন্দ্র পরিচালনা জনিত, ডিউটি বন্ঠন জনিত কোন ত্রুটি থাকলে তার জন্য ক্ষমাও চাইলাম। এসময় জনতার উজ্বল স্যার, সুব্রত স্যার সহ কয়েজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তারাও স্যারকে উইশ করেন।
স্যার জানালেন প্রথম সন্তান ছেলে, জাতির পিতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পিতৃভূমি গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স এর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং দ্বিতীয় সন্তান মেয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পড়ছে।
শিক্ষকতার দীর্ঘ সময়ে অনেক পিতা-মাতার সন্তানকে মানুষ করেছেন, দিয়েছেন বিভিন্ন রূপরেখা। পাশা-পাশি নিজের সন্তানদেরকেও সু-শিক্ষায় শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। এখনে তিনি শিক্ষক ও বাবা হিসাবেও সফল। উল্লেখ্য, জনাব আলী আমজাদ স্যারের বাড়ি কেন্দুয়া উপজেলাধীন আঙ্গারুয়া গ্রামে।
আমাদের সিনিয়র এই সহকর্মী আলী আমজাদ স্যার সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। আমরাও অবসর গ্রহণকরা এই শিক্ষকের জন্য দোয়া করি, তিনি যেন ভাল থাকেন, সুস্থ্য থাকেন এবং দীর্ঘায়ূ লাভকরে সন্তানের উপর দীর্ঘদিন ছায়া হয়ে থাকেন।