দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ১নং নাফানগর ইউনিয়নের বড় সুলতানপুর গ্রামের একটি ছোট্ট টিনের ঘর—সেখানেই বসবাস ৭৩ বছর বয়সি রিয়াজ উদ্দিনের। বার্ধক্যের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, তবুও থেমে নেই তার জীবিকার সংগ্রাম। পাশে আছেন ৭০ বছর বয়সি স্ত্রী আরজীনা বেগম, যিনি ঘরোয়া কাজ ও সংসার সামলান। তবে পরিবারের উপার্জনের দায় একাই কাঁধে তুলে নিয়েছেন রিয়াজ উদ্দিন।
সোমবার দুপুরে দেখা যায়, তিনি ২নং ইশানিয়া ইউনিয়নের মুরারীপুর বাজার সংলগ্ন ঝোপঝাড়ে কালো কচুর গাছ সংগ্রহে ব্যস্ত। প্রতিদিন ফজরের নামাজ আদায় করে তিনি বেরিয়ে পড়েন গ্রাম-গঞ্জ, কখনো নদীপথ পেরিয়ে, কখনো বাঁশঝাড়ের ভেতর দিয়ে। লক্ষ্য একটাই—ঝোপঝাড় থেকে কালো কচুর গাছ সংগ্রহ করা। দিন শেষে সেগুলো বাজারে বিক্রি করে পান ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। সেই সামান্য আয়েই চলে তাদের দু’জনের সংসার।
রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “ভোরে নামাজ পড়ে বের হই। সারাদিন কচু সংগ্রহ করি, বিক্রি করি। যা পাই, তাই দিয়েই সংসার চালাই।”
শীত, গরম বা বর্ষা—কোনো ঋতুই তাকে থামাতে পারে না। প্রতিটি কচুর গাছ তুলতে লাগে শ্রম, সময় ও সতর্কতা। দুর্গম পথ পেরিয়ে একাই চালিয়ে যাচ্ছেন এই সংগ্রাম। সহায়তার হাত তেমন মেলে না, তবুও দমে যাননি তিনি।
গ্রামের মানুষের চোখে রিয়াজ উদ্দিন এক নীরব যোদ্ধা। বয়স তার সীমাবদ্ধতা, কিন্তু মনোবল এখনো অটুট। তার জীবনগাথা শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়; এটি গ্রামীণ বাস্তবতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। যেখানে প্রতিদিনের পরিশ্রমেই টিকে থাকে সম্মান, আত্মমর্যাদা আর বেঁচে থাকার আশাবাদ।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও রিয়াজ উদ্দিন যেন মনে করিয়ে দেন—মানুষের নীরব শক্তি কখনো ক্ষয় হয় না।