কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়নে দিন দিন অবনতি ঘটছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই অশান্তি বাড়ছে, আর এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। বিশেষ করে ইয়াবা ব্যবসা ও সেবনকারীদের বেপরোয়া তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গোপনে এবং প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি হচ্ছে। কিছু অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এদের প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে, তারা অনেক ক্ষেত্রে আইনের তোয়াক্কা না করেই প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। তরুণ সমাজের একটি অংশ দ্রুত মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, যার ফলে পরিবারে অশান্তি, চুরি-ছিনতাই, এবং সহিংসতা বেড়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থার মধ্যেই সম্প্রতি তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা চালক বিপ্লব (২৮) হত্যার ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, মাত্র ১০/২০ টাকার লেনদেন নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে সংঘর্ষ বাঁধে এবং এক পর্যায়ে বিপ্লবকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বেশিরভাগ আসামিই মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যা ঘটনাটিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
নিহত বিপ্লবের পরিবার বর্তমানে চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বিপ্লব। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে পরিবারটির জন্য আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, মাদকের কারণে ছোটখাটো বিষয়ও এখন বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। প্রতিনিয়তই কোথাও না কোথাও ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি ও হামলার ঘটনা ঘটছে। ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে নজরদারি বাড়ানো, সন্দেহভাজনদের তালিকা প্রস্তুত এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানই যথেষ্ট নয়—মাদক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তাদের মতে, এখনই যদি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা না হয়, তাহলে কৈলাগ ইউনিয়নের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই একমাত্র পথ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।