জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ পত্নীতলা উপজেলার এর উদ্যোগে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিডিয়ার জগতের আলোড়ন সৃষ্টিকারী নওগাঁর কৃতি সন্তান জনাব ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, আরো উপস্থিত ছিলেন ৪৭ নওগাঁ -২ এর এমপি পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, ডঃ মোঃ আবু ওবায়দা এবং ডাক্তার মোঃ শামসুল আলম, এছাড়া জামায়াতে ইসলামের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা তাকবীর, আল্লাহু আকবার! বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ। স্লোগানে মুখরিত হয় নজিপুর বাসস্ট্যান্ড। আমাদের নওগাঁর গর্ব, মিডিয়াতে দেখতাম আমাদের নওগাঁর কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির । গতকাল ০ ৪/০১/২০২৬ইং তারিখ বিকেলে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির আমাদের মাঝে চলে আসেন। তার আসার উপলক্ষে, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ। লাল গোলাপ শুভেচ্ছা। লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।স্লোগানে মুখরিত হয় বাসস্ট্যান্ড । এসেই তিনি বক্তব্য শুরু করেন, তিনি তার বক্তব্য বলেন- আপনাদের এখানে আসতে পারে আল্লাহ তা’আলাকেধন্যবাদ জানাই । আমি কয়েকটা কথা বলবো, একটু আপনারা ধৈর্য নিয়ে শোনেন। ভালোভাবে শোনেন, ইনশাল্লাহ এটা আপনাদের উপকার হবে, আমাদেরও সবার উপকার হবে। আমার এই ভাই দাঁড়াইছে, উনার স্ত্রী কি বলছে? টাকা চাইছে কোনদিন আপনাদের কাছে ? এমন কোন ক্যান্ডিডেটকে আমরা জিতাবো না, যার স্ত্রী আপনার কাছে টাকা চাবে, তাকে জিতানোর কথা বলা ঠিক হবে । এই ভাই কি কোন খাস পুকুর দখল করেছে, দিঘি দখল করেছে? যার হাতে খাস পুকুর, দিঘি এগুলো নিরাপদ না, তাকে কি আপনি জয়যুক্ত করাবেন? আমরা কার সাথে সবসময় থাকতে চাই ও জয়যুক্ত করতে চাই, যে আল্লাহকে খুশি করতে চায়? আল্লাহর কাছে দায়বদ্ধ, তাই তো? আল্লাহর কাছে যারা দায়বদ্ধ, তাই জিতলেও আপনার সাথে থাকবে, না জিতলেও সাথে থাকবে। আর ভোট হচ্ছে আমানত। ভোট হচ্ছে আমানতের খেয়ানত করলে কি করতে হবে? না, এই কথা বলব না। আমানতের খেয়ানত করলে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হয়। তাহলে এমন কোন কাজ করব না, যে কারণে আমাকে জবাবদিহি করতে হয়। আর যিনি এখানে দাঁড়াইছেন আরেকজন। তাকে আপনারা অতীতে দেখছেন, তার সম্পর্কে আমি কিছু বলব না। তবে এতক্ষণ খালি বলি, এবারে আল্লাহর ওয়াস্তে, আল্লাহর ওয়াস্তে দেখছেন তো সব। কে কত কি করছে, কে কি করছে, কে কত করে যে বললাম প্রথমে তিনটা। কে গভর্নমেন্টের খাস জমা ভূমি দখল করছে, আপনি আমার চেয়ে ভালো জানেন। কার কাছে টেম্পো, ইজারা ছিল দখলে সেটাও আপনি জানেন। তো, আল্লাহকে ভয় করে এবার আমাদের যে পাল্লা, এই দারি পাল্লা কি খালি জামায়াতে ইসলামীর পাল্লা? কিসের প্রতীক? আমাদের আমির এ জামাত আগামীকালকে আসতেছেন, ইনশাল্লাহ। উনি উনার যেটা আহ্বান সমস্ত মুসলমানের সে আহ্বান। ইনসাফের প্রতীক এটা সমস্ত সব মুসলিম মানুষের, খালি মুসলমানের না। ইনসাফ কি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান চায় না? ইনসাফ মানে কি ন্যায় বিচার? ন্যায় বিচার আমরা সবাই চাই। এবং এই ন্যায় বিচারের প্রতীককেই আল্লাহর যে প্রতীক পছন্দের প্রতীকই জামায়াতে ইসলাম গ্রহণ করছে। তো এই প্রতীককে জয়লাভ করানোর দায়িত্ব আমার, আপনার সকলের। এর সাথে আরেকটা কথা বলি, হ্যাঁ ভোটে কেন আরেকটা দলের এত ভয়? আগের জায়গায় আবার চলে যাব? আজকে এতগুলো মানুষ, এই ভাই কি গুপ্ত ছিল কোনদিন? আমি ব্যারিস্টারকে এদেশ ছেড়ে পালায় কোথায় ছিলাম? তাহলে হঠাৎ আমার নাম গুপ্ত আসলো কেন? আমার আমির এ জামাতকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রিমান্ডে নিয়ে আপনার অ্যাড্রেস বলেন। উনি বলছিল, কোন অ্যাড্রেস বলব? বলল, যে আপনি যে বাসায় থাকেন, একরাতও তো শান্তি মতো এক বাসায় থাকতে দেননি। তাহলে পনের বছরে কত বাড়িতে ছিলাম, সব বাড়ির অ্যাড্রেস দেওয়া লাগবে। এটা যদি হয়ে থাকে গুপ্ত, তাহলে আমরা সবাই গুপ্ত। আমি বারো সাল থেকে কোরআন শরীফ দিই নওগাঁ জেলায়। বারো সালে যখন প্রথম কোরআন শরীফ দিলাম, সে কোরআন শরীফ হচ্ছে যে আমাদের অধ্যাপক গোলাম আজম সাহেবের। ওই কোরআন শরীফের উপরে উনার নাম লেখা ছিল। পোড়া ছাড়া কেউ নিলো না। আমার কোরআন শরীফ ফেরত চলে গেল। কি কারণে জানেন? তখন এই কোরআন শরীফকে এরা বললো জঙ্গি বই। পরের বছর এই কোরআন শরীফের উপর থেকে আমি খালি অধ্যাপক গোলাম আজমের নামটা সরাইয়া দিয়ে কোরআন শরীফ দিলাম, সবাই নিলো। এর নাম যদি গুপ্ত হয়ে থাকে তাহলে আমরা গুপ্ত। আল্লাহকে খুশি করার জন্য আমরা এই ময়দানে আসছি। আমাদের কোন ব্যক্তিগত লাভ নাই।… আর এই যে ভার উনি দাঁড়াইছেন আমাকে দিতে চাইছে, আমি নিইনি। ভয়ে নিইনি যে কি জবাব দিব? তাহলে আমাদের মধ্যে এই ভয় যাদের মধ্যে আছে তারা কি আপনাকে পেয়ে কোথাও পালায় চলে যাবে? না, চলে যাবে না। শহীদ কোন দলে সবচেয়ে বেশি হয়েছে? তাহলে আমরা যদি গুপ্ত হই তার তো শহীদ হওয়ার কথা ছিল না। শহীদ হওয়ার কথা ছিল না। আমাদের কয়জন আর এই দুনিয়াজিবি কাজ করে আমরা খায়া রোজগার করি। এনার কি দরকার ছিল? এই যেভাবে সমস্ত জায়গায় দৌড়ে বেড়াচ্ছে কার জন্য? আল্লাহকে খুশি করার জন্য, আর কাউকে খুশি করার জন্য না। তো আল্লাহকে খুশি করার জন্য হলে তারে তাহলে আপনি ভোট দিবেন ইনশাল্লাহ। জুলাই সনদে কি ভোট দিতে হবে? হাতে ভোট দিতে হবে। কেন হাতে ভোট দিতে হবে? গোলামী চান না, স্বাধীনতা চান? দিল্লি না ঢাকা, গোলামী না স্বাধীনতা? তো ইনশাল্লাহ, আল্লাহ আমাদেরকে আজাদ করে এখানে পাঠাইছে। আশরাফুল মাখলুকাত করে। তো আমরা সৃষ্টির সেরা জীব, এটা প্রমাণ করার জন্য এই বাংলার জমিনে আমরা কোরআন এবং সুন্নাহর আলোকে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করব। আল্লাহ এটা কবুল করুন। আমরা আসতে দেরি হয়েছে যেন ক্ষমা করে দেন আর আপনাদের ভাইকে, আমার না, আপনাদের সকলের এই ভাইকে। এই ভাইকে জেতানা মানে কি? কোরআন ও সুন্নাহকে জেতানা। মানে কি, এদেশ ইসলামের আলোকে আলোকিত করা। আপনার দায়িত্ব ইসলামের আলো সবার ঘরে ঘরে ছড়ানো। আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। এর পর অত্যন্ত সম্মানিত অতিথি বিদায় করে দিয়ে উক্ত সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।