ঝিনাইদহে তেল নিতে গিয়ে ফিলিং স্টেশন কর্মীদের পিটুনিতে নিরব আহমেদ (২২) নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতা নিহতের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে শহর। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং পাম্পে থাকা তিনটি পরিবহনে অগ্নিসংযোগ করেছে।
শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) রাতে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন হারুন অর রশিদ (সৃজনি) মালিকানাধীন ‘তাজ ফিলিং স্টেশনে’ মোটরসাইকেলে তেল নিতে যান ছাত্র নেতা নিরব আহমেদ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তেল দেওয়া নিয়ে পাম্প কর্মীদের সাথে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পাম্পের কর্মীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে নিরবকে বেধড়ক মারধর করে। মাথার পেছনে আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নীরব বারোবাজার এর বাদুড় গাছা গ্রামের মৃত আমিনুল ইসলাম এর ছেলে। ছোট বেলায় বাবা মা’কে হারিয়ে এতিম নীরব ঝিনাইদহ শহরে খালা খালুর কাছে বড় হয়। ২০২৪ এর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সংগঠন এর নের্তৃত্ব দেন এবং সাধারণ শাখার সদস্য হিসাবে কাজ করে আসছিলেন।
নেতা নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে। উত্তেজিত জনতা রাত ১ টার দিকে তাজ ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে।
এসময় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এ থাকা জে আর পরিবহন, গোল্ডেন লাইন পরিবহন, রয়েল পরিবহন এর তিনটি বিলাস বহুল বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যা মুহূর্তেই ভস্মীভূত হয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে র্যাব ৬ এবং ঝিনাইদহ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ফিলিং স্টেশনের তিন কর্মীকে আটক করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রবিবার সকাল থেকে পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রাখলে ঝিনাইদহ ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
নিহত নিরবের সহযোদ্ধারা এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।