গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার তাড়াইল গ্রামের গৃহবধূ সীমা খানম (২৪)-কে হাত-পা বেঁধে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী রুবেল মোল্লার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী সীমা খানম শ্রীরামকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল আলী কাজীর মেয়ে। তার মায়ের নাম শাহেদা বেগম। প্রায় ১০ বছর আগে তারাইল ডুমুরিয়া ইউনিয়নের কৃষক রুবেল মোল্লা (৪০)-এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৭ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, নাম রাইসা।
অভিযোগে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ সোমবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে যৌতুকের টাকার দাবিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রুবেল মোল্লা তার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সীমা খানমের হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং ঘরের মধ্যে আটকে রেখে রাতভর শারীরিক নির্যাতন চালায়। পরদিন ৩১ মার্চ মঙ্গলবার ফজরের আজানের পর তার হাত-পা খুলে দিলে স্বামী মাঠে কাজে চলে যায়।
এ সুযোগে নিজের জীবন বাঁচাতে সীমা খানম বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে তার মা ও ভাই তাকে উদ্ধার করে টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সীমা খানম জানান, তার ১০ বছরের বিবাহিত জীবনে প্রায়ই যৌতুকের টাকার জন্য তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে আমার মাথায় আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং চুল কেটে ফেলে। এতে আমার মাথায় প্রায় পাঁচটি সেলাই লাগে।”
তার মা শাহেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “জামাই যখন যা চেয়েছে, আমি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন তার অতিরিক্ত চাহিদা পূরণ করতে না পারায় আমার মেয়েকে নিয়মিত নির্যাতন করছে।”
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন,লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।