শীতের হিমেল হাওয়া আর লবণাক্ত মাটির কঠিন বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে খুলনার সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রা উপজেলার মাঠে মাঠে এখন একটাই ব্যস্ততা—তরমুজ। চোখ যতদূর যায়, বিস্তীর্ণ বিলে শুধু সবুজ স্বপ্নের আভাস।
কোথাও বীজতলা প্রস্তুত হচ্ছে, কোথাও মাদা তৈরি করে বীজ রোপণ করছেন নারী-পুরুষ শ্রমিকরা, আবার কোথাও সেচযন্ত্রের সাহায্যে জমিতে পানি ছিটানো হচ্ছে। নোনা জমিতে যেন নতুন করে আশার বীজ বুনছেন উপকূলের কৃষকেরা।
একসময় আমন ধান কাটার পর কয়রার বিস্তীর্ণ এলাকা পড়ে থাকত অনাবাদি। শুষ্ক মৌসুম এলেই মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যেত, চাষাবাদের সাহস পেতেন না কেউ।
সেই পতিত জমিগুলোই এখন বদলে গেছে লাভের খেতে। অল্প সময়ে কম খরচে বেশি লাভ—এই সমীকরণেই কৃষকদের ভরসার ফসল হয়ে উঠেছে লবণসহিষ্ণু তরমুজ।
সম্প্রতি মহারাজপুর, মহেশ্বরীপুর, আমাদী, চণ্ডীপুর, খিরোল, কিনুকাটি, হরিনগরসহ কয়রার অন্তত ১৫টি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। বিলের পর বিল জুড়ে চলছে তরমুজ চাষের প্রস্তুতি।
কোথাও সদ্য বীজ রোপণ শেষ হয়েছে, কোথাও আবার নিয়মিত পানি দেওয়া হচ্ছে। দূরের খাল বা পুকুরের জমা পানি সেচযন্ত্রে এনে পাইপের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খেতে। মৌসুমি শ্রমিকদের ব্যস্ততায় যেন দম ফেলার সময় নেই।নোনা মাটিতে যেখানে একসময় ছিল হতাশা, সেখানে এখন জন্ম নিচ্ছে সবুজ স্বপ্ন। তরমুজ শুধু একটি ফসল নয়, উপকূলের কয়রায় এটি হয়ে উঠেছে সম্ভাবনার নাম—জীবন বদলে দেওয়ার এক নতুন অধ্যায়। কৃষক এখন স্বপ্ন দেখে নতুন ভাবনার।