আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর–হাকিমপুর–নবাবগঞ্জ–ঘোড়াঘাট) আসনে নির্বাচনী তৎপরতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠেছে। এ আসনে মোট ৭ জন বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। প্রচারণা ও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর-৬ আসনের প্রার্থীরা হলেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রার্থী ডা. এজেডএম মো. জাহিদ হোসেন (প্রতীক: ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ারুল ইসলাম (প্রতীক: দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মো. রেজাউল হক (প্রতীক: লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নুর আলম সিদ্দিক (প্রতীক: হাতপাখা), বাসদের মো. আব্দুল হাকিম (প্রতীক: মই) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ শাহ (প্রতীক: ঘোড়া) মোঃ আবদুল্লাহ (প্রতীক ফুটবল)
নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দফায় দফায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরছেন তারা।
বিএনপির প্রার্থী ও স্হায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন- “দিনাজপুর-৬ আসনের চারটি উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত এবং জাতীয় অগ্রগতির মূলধারা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অবকাঠামোসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি। জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে, দিনাজপুর-৬ আসনের সার্বিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই অঞ্চলকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় জনপদে রূপান্তর করার দৃঢ় অঙ্গীকার করছি।”
অন্যদিকে ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক জেলা আমীর মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “দিনাজপুর-৬ আসনের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে নানা ক্ষেত্রে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অবকাঠামো—সব খাতেই এই এলাকার উন্নয়ন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ পেলে, আমি এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দিনাজপুর-৬ কে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করা হবে। একই সঙ্গে এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে সুযোগ দিন।”নতুন প্রজন্ম আদর্শিক রাজনীতির কারণে জামায়াতকেই ভোট দেবে বলেও দাবি করেন এই প্রার্থী।
৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই দিনাজপুর-৬-এর জনগণ আশা করছে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য দিনাজপুর-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫,৫৭,৬৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৭৮,০৫৩ জন, নারী ভোটার ২,৭৯,৬২৭ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৩ জন। এ আসনে রয়েছে ৩টি পৌরসভা, ২৩টি ইউনিয়ন এবং ১৯৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।