পিরোজপুর জেলার -র রঘুনাথপুর গ্রামে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে গরম পানিতে পড়ে দগ্ধ হয়েছে আবু রায়হান নামে এক শিশু।
সোমবার (১ জুন ২০২৬) দুপুরে উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে এবং শিশুর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধ শিশু আবু রায়হান কচুরিয়া এলাকার আবু বক্করের ছেলে। কয়েকদিন আগে সে তার মায়ের সঙ্গে নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে। ঘটনার দিন বাড়িতে ধান সিদ্ধ করার কাজ চলছিল। এ সময় একটি তাফালে ধান সিদ্ধের জন্য গরম পানি রাখা ছিল। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকায় শিশুটি খেলতে খেলতে অসাবধানতাবশত গরম পানির কাছে চলে যায় এবং একপর্যায়ে তাতে পড়ে গিয়ে গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়।
শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাকে গরম পানির ভেতর থেকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তাজু শেখ বলেন, “শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই চঞ্চল হয়। পরিবারের সদস্যদের একটু বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল। অসাবধানতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রামাঞ্চলে ধান সিদ্ধ, রান্নাবান্না কিংবা অন্যান্য গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত গরম পানি ও আগুনের পাশে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে অনেক পরিবার যথেষ্ট সচেতন নয়। ফলে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনার খবর শোনা যায়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শিশুদের নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে গরম পানি, আগুন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো নিরাপদভাবে ঘিরে রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা উচিত। অন্যথায় সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও বলেন, শিশুদের প্রতি পরিবারের দায়িত্বশীল আচরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা না গেলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। তারা সকল অভিভাবকের প্রতি শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সবাই দগ্ধ শিশু আবু রায়হানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।