নওগাঁর ধামইরহাটে লিমা পাহান (১৭) নামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাম্প্রদায়ের এক শিক্ষার্থীর ঘরের বাঁশের বর্গায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে নিজ বাড়িতে বাঁশের বর্গার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় নিহতের চাচা নির্মল পাহান লাশ উদ্ধার করে। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।জানা গেছে কদিন বাদে ওই শিক্ষার্থীকে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল।
লিমা পাহান ধামইরহাট পৌর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাটনগর এলাকার নিমাই পাহানের মেয়ে। পরিবারে চার বোনের মধ্যে সে বড়। ধামইরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলো সে। ঘটনার সময় বাড়িতে সে একাই ছিল এবং লাশের গলায় দাগের চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে।
এবিষয়ে স্থানীয়রা জানান, মাথার সমস্যার কথা বলে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টাও চলছে বলেও মন্তব্য করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, লিমা পাহানের মাথায় সমস্যা থাকার কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশী এক নারী মুদি ব্যবসায়ী জানান, বাবা মার অভাবের সংসারে অর্থের অভাবে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছিল না লিমা। এরই মধ্যে মামার সংঙ্গে নিহতের বাবা-মার মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে কিছু ঝামেলা হয়েছিল। একারণে পরিবারের মধ্যে সে নিজেকে বোঝা ভেবে আত্মহত্যা করতে পারে। এর সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে জানান।
নিহতের মা রঞ্জনা পাহান বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে মাঠে ধান লাগানোর কাজে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর সন্ধ্যায় জানতে পারেন, মেয়ে গলায় কাপড় পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু কি কারণে আত্মহত্যা করেছে এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।
ধামইরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিহা ইয়াসমিন বলেন, লিমা পাহান বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। সে মেয়ে ও শিক্ষার্থী হিসেবে ভালো ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার বিষয়ে কিছুই জানেন না।
এবিষয়ে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর রাত আটটা দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে বলে জানান।