পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির ১১তম আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার (১৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী টানেল সাইট অফিসের টোল প্লাজা সংলগ্ন কমপ্লেক্স বিল্ডিং-এর কনফারেন্স রুমে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক মো. তৌহিদ হোসেন। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা এবং ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী বিষয়ক প্রত্যাবাসন ও পূনর্বাসন এবং আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান সুদত্ত চাকমা। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত (অবঃ) সুপ্রদীপ চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা।
সভায় বিগত ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত দশম আলোচনা সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন করা হয়েছে। দশম সভার গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে জুম্মো শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব পদে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের পরিবর্তে টাস্কফোর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা, ভূমি কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন করা, পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যাবলী হস্তান্তর করা, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির অফিস স্থাপন ও জনবল নিয়োগ করা ইত্যাদি।
একাদশ আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে করার প্রস্তাব করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেন, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ভারত প্রত্যাগত জুম্মো শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের পর তবেই ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে করার বিধান রয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ৪০টি প্রত্যাহৃত সেনা ক্যাম্পে এপিবিএন মোতায়েন করার জন্য প্রস্তাব করেন। এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা এই প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করেন এবং উক্ত প্রস্তাবটি বাতিল করার আহ্বান জানান।
সভায় জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ইঁদুর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জুমচাষীদের সাহায্য প্রদান এবং পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করার বিষয়গুলো উত্থাপন করেন। এবিষয়ে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত করা হয়েছে।
বৈঠকটি সকাল ১১টায় শুরু হয়ে সাড়ে তিন ঘন্টা পর্যন্ত আলোচনা করার পর সম্পন্ন করা হয়।