পিরোজপুর সদর উপজেলার পূর্ব শিকারপুর এলাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক কারবারে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পূর্ব শিকারপুর এলাকার ‘খান মঞ্জিল’ নামক একটি দুইতলা ভবনে এ অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এবং বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বয়ে যৌথভাবে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে ভবনটির বিভিন্ন গোপন কুঠুরি তল্লাশি করে ৪৯৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা। এছাড়া একই ভবন থেকে আমদানিকৃত কুড়াল, পকেট নাইফ ও স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি ৭টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন পিরোজপুর সদর সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর ইশরাক রহমান। তিনি বলেন,
“মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ডিএনসি ও বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. টিপু কাজী (৩৭), পিতা: মো. জালাল কাজী; মো. নূর ইসলাম (২৮), পিতা: শাহ আলম; ইমরান (৩৬), পিতা: রওন মিয়া এবং মো. শাজিব খান, পিতা: কে এম সিদ্দিকুর রহমান।
অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত মাদক, অস্ত্র ও গ্রেপ্তারকৃতদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পিরোজপুর সদর থানার পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজতে নেয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল আমিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৬ পিস ইয়াবা তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি করেন। অবশিষ্ট ৪৭৮ পিস ইয়াবা ডিএনসি কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা নম্বর ১৬/২০২৬, ১৭/২০২৬ ও ১৮/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযুক্তদের প্রত্যেককে ২৪ মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত দেশীয় ধারালো অস্ত্রের বিষয়ে পৃথক জব্দ তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।