ঝিনাইদহ শহরের ‘চারুগৃহ শিশুস্বর্গ’ বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষিকার ফেসবুক ওয়ালে ক্রমাগত অশ্লীল ছবি, নগ্নতা ও ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ওই নারীর নাম মাওয়া জান্নাত। এই ঘটনায় স্থানীয় ওলামা পরিষদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তের গ্রেফতার দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া:
গতকাল রোববার বিকেলে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে একদল ইমাম জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ পেশ করেন। অভিযোগে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসেও ওই নারী তার ফেসবুক আইডিতে ধারাবাহিকভাবে নগ্ন ও যৌন সুড়সুড়িমূলক ছবি পোস্ট করে আসছেন। এছাড়া বিভিন্ন বিতর্কিত ও ধর্মীয় উসকানিমূলক বার্তাও তিনি প্রচার করছেন।
স্টেডিয়ামপাড়ার বাসিন্দা ও অভিভাবক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা স্তম্ভিত। যার কাছে আমাদের সন্তানরা নৈতিকতা শিখবে, তার ফেসবুক ওয়াল যদি নগ্নতায় ভরা থাকে, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কী শিখবে? আমরা তার কঠোর শাস্তি চাই।”
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও আল্টিমেটাম:
পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে সদর থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সূত্র জানায়, এসআই আসাদুজ্জামান ওই নারীকে পোস্টগুলো সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানালে তিনি তা উপেক্ষা করেন এবং নিজের ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতার’ কথা বলে পোস্ট বহাল রাখেন।
আজ সোমবার বিকেলে ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ওলামা পরিষদ আগামী ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। মাওলানা সাইদুর রহমান বলেন, “আগামীকালের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা না হলে ঝিনাইদহে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”
পুলিশের তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা:
পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল সাংবাদিকদের জানান, “বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। সংগৃহীত আলামতগুলো সাইবার ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও অশ্লীলতা ছড়ানোর প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা হবে।”
বিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি:
এদিকে, ‘চারুগৃহ শিশুস্বর্গ’ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আজ এক জরুরি সভায় অভিযুক্ত মাওয়া জান্নাতকে শিক্ষাদানের পবিত্র দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষকতা পেশার অমর্যাদা হয় এমন কোনো কাজ স্কুল কর্তৃপক্ষ সমর্থন করবে না।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অভিযুক্তের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে।