বরিশাল-৫ আসনে যা ঘটছে, তা সাধারণ কোনো নির্বাচন-রাজনীতি নয়; বরং এটি একটি সচেতন, পরিকল্পিত এবং লক্ষ্যভিত্তিক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য একটাই—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীরকে পরাজিত করা।
এই আসনে জামায়াত যে জিতবে না—সে বাস্তবতা তারা নিজেরাও ভালোভাবে জানে। মাঠের রাজনীতি বলছে, বরিশাল-৫ এ প্রকৃত লড়াই হবে হাতপাখা ও ধানের শীষের মধ্যে। এই সমীকরণ স্পষ্ট বুঝেই জামায়াত এখানে একটি নীলনকশা বাস্তবায়নে নেমেছে।
প্রথম ধাপে তারা প্রার্থী দিয়ে “ভালো থাকার” অভিনয় করছে। দ্বিতীয় ধাপে, উপযুক্ত সময় বুঝে প্রার্থী প্রত্যাহার করে বিএনপির প্রার্থীকে সরাসরি সমর্থন দেওয়ার প্রস্তুতি—এটাই পুরো নাটকের শেষ দৃশ্য।
এই রাজনৈতিক চালের পেছনে অন্তত তিনটি মৌলিক কারণ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
প্রথমত, যেখানে জামায়াতের বাস্তব কোনো সম্ভাবনা নেই, সেখানে তারা এই মুহূর্তে অর্থ ও সাংগঠনিক শক্তি ব্যয় করতে চায় না। রাজনৈতিক হিসাব তাদের কাছে আদর্শের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে।
দ্বিতীয়ত, খালেদা জিয়ার তৈরি করা রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে চলতে চায় জামায়াত আমির। সেই সূত্রেই বিএনপির পরামর্শে হাতপাখার উত্থান ঠেকানোর এই পরিকল্পনা। এটি আর গোপন কিছু নয়।
তৃতীয়ত—এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—জামায়াতের একটি বড় অংশের কর্মী ও নেতৃত্ব ইসলামী আন্দোলনের প্রতি যে বিদ্বেষ পোষণ করে, তার চেয়েও বেশি বিদ্বেষ তারা পোষণ করে শায়খে চরমোনাইয়ের প্রতি। এটি আদর্শিক মতপার্থক্যের চেয়েও ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ঈর্ষা থেকে উৎসারিত।
এখন প্রশ্ন হলো—এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে কেউ কি সত্যিই বিশ্বাস করে, বরিশালে জামায়াতের কর্মীরা নায়েবে আমীরকে ভোট দেবে?
আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়।
সমঝোতা চলাকালীন সময়ে একাধিকবার মিডিয়ায় অভিযোগ ওঠার পরও জামায়াত প্রার্থী প্রত্যাহার করেনি। অথচ সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর হঠাৎ করে প্রার্থী ছেড়ে দেওয়া—এটা কি নিছক রাজনৈতিক ভদ্রতা? নাকি এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য?
প্রশ্নগুলো কঠিন, কিন্তু উত্তরগুলো ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বলা যায়—
রাজনীতিতে অন্ধ বিশ্বাস আত্মঘাতী।
আর বারবার প্রতারিত হওয়ার পরও যারা বিশ্বাসযোগ্যতার মুখোশ পরে থাকে, ইতিহাস তাদের মুনাফিক হিসেবেই চিহ্নিত করে।
পীর সাহেব চরমোনাই আর এই বাস্তবতা না বুঝলে, সেটা হবে রাজনৈতিক নয়—ঐতিহাসিক ভুল।