বাংলাদেশের ইতিহাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা একটি গৌরবময় ঐতিহ্য। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক সহমর্মিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নজির স্থাপন করেছে। এই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকার দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর খিলক্ষেতে তিনটি মসজিদ ও একটি হিন্দু মন্দিরের জন্য জমি বরাদ্দপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। সরকার এমন কোনো উসকানি বা ইস্যু তৈরি হতে দেবে না যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”
সম্প্রতি খিলক্ষেতে রেলওয়ের জমি উদ্ধারের সময় একটি হিন্দু মন্দির উচ্ছেদের ঘটনা স্থানীয়ভাবে অসন্তোষের জন্ম দেয়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে সরকার নতুন করে ওই মন্দিরের জন্য জমি বরাদ্দ দিয়েছে। শফিকুল আলম জানান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে জমি প্রদান করা হয়েছে, যাতে সম্প্রদায়ের মানুষ নতুন উপাসনালয় নির্মাণ করতে পারেন।
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রনাথ মন্দিরে যাতায়াতের সিঁড়ি সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খিলক্ষেতের তিনটি মসজিদকেও জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করছে যে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সমানভাবে সহযোগিতা করা হবে।
শফিকুল আলম বলেন, “আমরা চাই—দেশের প্রতিটি মানুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করুক। এ দেশের ঐতিহ্যবাহী সম্প্রীতি কোনো অবস্থাতেই বিনষ্ট হতে দেওয়া হবে না।”