বাগেরহাটের মোল্লাহাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় ছয় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের মোল্লারকুল গ্রামে আজ রোববার বিকেলে এই হতাহতাতের ঘটনা ঘটে।নিহত ব্যক্তির নাম পান্না মোল্লা (৪০)। তিনি মোল্লারকুল গ্রামের তৈয়ব আলী মোল্লার ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের মোল্লারকুল গ্রামের খাঁকি ও কাজী বংশের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জেরে রোববার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) রাসেলুর রহমান ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে বলেন, মোল্লারকুল গ্রামে স্থানীয় খাঁকি ও কাজী বংশের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ বেশ পুরানো। সেই বিরোধের জেরে রোববার বিকেলে মোল্লারকুল হাটে কাজী বংশের দুই সমর্থকের সঙ্গে খাঁকি বংশের সমর্থকদের কথা–কাটাকাটি হয়। পরে তারা আলাদা আলাদাভাবে ঢাল সড়কি, ইট পাটকেল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় তারা। এ সময় দুটি পক্ষই বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে পুলিশ। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে কাজী বংশের সমর্থক পান্না মোল্লা নামে একজন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে পুলিশের ছয়জন সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আহতদের স্থানীয় মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
রাসেলুর রহমান আরও বলেন, পান্না মোল্লা গুলিতে না দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে মারা গেছেন তা এখনই বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই এলাকায় নতুন করে সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনো জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।