ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার অধিকাংশ আসনেই ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নিজ দলের প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। বিশেষ করে বিএনপির একাধিক আসনে দলীয় প্রার্থীদের বিপক্ষে সাবেক নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন। এই আসনের প্রধান চ্যালেঞ্জার হিসেবে বিদ্রোহী প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল ঘোড়া প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যান্য দলগুলোর প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই ধানের শীষ ও ঘোড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের শাহ শহীদ সারোয়ার। এছাড়া মাঠে রয়েছেন রিকশা, হাতপাখা, কলস, লাঙল ও একতারা প্রতীকের প্রার্থীরা।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে প্রধান লড়াই হচ্ছে বিএনপির ধানের শীষ প্রার্থী ইকবাল হোসেইন ও বিদ্রোহী প্রার্থী আহম্মদ তায়েবুর রহমান (ঘোড়া) এর মধ্যে। অন্যদিকে, এ কে এম আরিফুল হাসান (কাঁচি), মো. আবু তাহের খান (বই), মো. শরিফুল ইসলাম (হাতপাখা) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ময়মনসিংহ-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া লাঙ্গল, কাস্তে, মাথাল, হাতপাখা, একতারা, আম ও কাঁচি প্রতীকের প্রার্থীরাও লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে ধানের শীষ প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলুর প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মতিউর রহমান আকন্দ। অন্যান্য প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা, মাথাল ও ঈগল প্রতীকের প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে ধানের শীষ প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কামরুল আহসান মিলন। এছাড়া ঘোড়া প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী জসিম উদ্দিন, ফুটবল ও হাতপাখা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও লড়াই করছেন।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন এবং কাপ-পিরিচ প্রতীকের মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যথাক্রমে দাঁড়িপাল্লা, হাতপাখা, লাঙল ও মোটরসাইকেল প্রতীকে লড়ছেন।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) নির্বাচনী পরিস্থিতি এমনভাবে বিবৃত হয়েছে যে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনে চার প্রার্থী লড়ছেন: বিএনপির লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, এলডিপির আওরঙ্গজেব বেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ নূরুল কবির এবং জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম। তার মধ্যে বিএনপি ও এলডিপির প্রার্থীরা প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন, এক অনুপাত তিন-এ হবে ভোটের লড়াই। ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৭৯, যার মধ্যে পুরুষ ১,৭৭,০৯৯, নারী ১,৬৮,৬৪৩ এবং তৃতীয় লিঙ্গ ৬। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা হাট-বাজার, বাড়ি-বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ চালাচ্ছেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক সংস্কার, কৃষি ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
যদিও ফখরুল ইমাম দীর্ঘকাল এমপি ছিলেন, ভোটাররা তার প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। শাহ নূরুল কবির দল পাল্টানোর কারণে কিছুটা আস্থা কম পেয়েছেন। এলডিপির আওরঙ্গজেব বেলাল জোট সমর্থকদের সঙ্গে ভালো সাড়া পাচ্ছেন। তবে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের আস্থা, সমস্যা সমাধানে কাজ এবং গণসংযোগের কারণে বিএনপির লুৎফুল্লাহেল মাজেদই দানশীল ও জনগণের মন জিতে এগিয়ে আছেন।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ইয়াসির খান চৌধুরীর মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বী হাঁস প্রতীকের হাসিনা খান চৌধুরী। এছাড়া ফুলকপি, সূর্য, হাতপাখা ও লাঙল প্রতীকের প্রার্থীরাও নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন।
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে ধানের শীষ প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চু এবং হাঁস প্রতীকের আবু বকর সিদ্দিকুর রহমানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ছাতা, দাঁড়িপাল্লা, লাঙল, ফুটবল, কাস্তে ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীরাও নির্বাচনমুখী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ধানের শীষ প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর মুখোমুখি হরিণ প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী মুর্শেদ আলম। এছাড়া শাপলা, ট্রাক ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীরাও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ জেলায় একাধিক আসনে মোট ৭৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ৭৪ লাখ ২০ হাজার ১৬৪ জন।