নারায়ণগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা যতই এগোচ্ছে, ততই ভয় ও হুমকিভিত্তিক রাজনীতির অভিযোগ সামনে আসছে। ধানের শীষের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের বক্তব্য এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের প্রকাশ্য হুমকিতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নির্বাচনী প্রচারণাকালে ধানের শীষের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান এক বক্তব্যে বলেন,
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষ বিজয়ী হলে আওয়ামী লীগের একটি মামলাও থাকবে না।
তার এই বক্তব্য ঘিরে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—নির্বাচনের ফলাফলের ওপর কি দেশের বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসন নির্ভর করবে?
এরই মধ্যে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন,
ধানের শীষে ভোট না দিলে রেহাই দেওয়া হবে না। এখানে ১৫০০ ভোট আছে, যদি ২০০ ভোট অন্যদিকে যায় আমরা ধরে ফেলব। প্রত্যেকটা ভোটারের পেছনে আমাদের লোক লাগানো আছে। একটা ভোটো এদিক-সেদিক হলে খবর আছে।
এই বক্তব্যে ভোটারদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একজন ভোটার কোন প্রতীকে ভোট দেবেন সে সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি, ভোটের ব্যালটের ছবি তোলার ভয় দেখানো এবং ভোটারদের ‘লোক লাগিয়ে রাখার’ হুমকি সরাসরি সংবিধান স্বীকৃত গোপন ও স্বাধীন ভোটাধিকারকে লঙ্ঘন করে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এলাকার সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ কেউ ভোটকেন্দ্রে যাওয়াকেই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। একাধিক ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
ভোট দিলে পরে কী হবে, এই ভয়টাই সবচেয়ে বড়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভয় ও হুমকির পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাদের প্রশ্ন স্বৈরাচার পতনের দাবিতে যে দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে, সেই দেশ কি আবার ভয় ও দমননীতির রাজনীতির দিকেই ফিরে যাচ্ছে?
এদিকে এ বিষয়ে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশ্য হুমকি ও ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
সাধারণ ভোটারদের ভাষ্য,
ভোট যদি হয় ভয় আর হুমকির ছায়ায়, তাহলে তা গণতন্ত্র নয় এটি হবে ক্ষমতা দখলের আরেকটি অন্ধকার অধ্যায়।
এখন দেখার বিষয়, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে আদৌ কঠোর ব্যবস্থা নেয় কি না।