1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জামায়াত আমিরের সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ‘আ.লীগের আমলের আইনেই দলটির বিচার হবে’ বলে ব্যাখ্যা দিলেন চিফ প্রসিকিউটর বগুড়া শিবগঞ্জে চাঞ্চল্যকর প্রতারণা মামলার আসামী শাওন গ্রেফতার : মূল রহস্য উদঘাটন। গঙ্গাচড়ায় সয়ড়াবাড়ী রহিম উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছাত্রীকে যৌন হয়রানি এবং ভিকটিমের বাবা-মা প্রতিবাদ করায় তাদের ও মারপিট করায় আসামি গ্রেফতার নাগরিকবান্ধব, উন্নয়নমুখী ও যুগোপযোগী বাজেট ঘোষণা করায় রাসিক প্রশাসককে বিভিন্ন বিভাগ ও শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন রামপালে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ট্রাফিক পুলিশকে অনুরোধ না করতে সব মন্ত্রীকে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্টদের বিচারের মাধ্যমে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে: নুর ‘যারা জুলাইকে কটাক্ষ করবে, তাদের জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলতে হবে’: ছাত্রদল নেতা

ময়মনসিংহ-৬ আসনে শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচারণায় এগিয়ে অধ্যাপক জসিম

Arif Robbani
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯২ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। গ্রামে গ্রামে, হাটবাজারে ও চায়ের দোকানে নির্বাচনের আলোচনা জমে উঠেছে। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণার সমাপ্তি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফুলবাড়িয়া  উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ঘোড়া মার্কার প্রচারণায় মুখরিত। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে গণসংযোগ, নির্বাচনী সভা ও উঠান বৈঠক। নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে গ্রামের মোড়, মাইকিংয়ে শোনা যাচ্ছে ভোটের আহ্বান। প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিস্কৃত  ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র  প্রার্থী অধ্যাপক জসিম উদ্দিন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন ফুলবাড়িয়া থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি মরহুম শামসুদ্দিন আহমেদ এর স্ত্রী ও উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আকতার সুলতানা। এমনটাই আলোচনা চলছে উপজেলার প্রতিটি গ্রামগঞ্জের মানুষের মাঝে।
অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী  এর সাবেক কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, ময়মনসিংহ অঞ্চলের নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ এর দায়িত্ব পালনকারী সাবেক সহকারি অঞ্চল পরিচালক ছিলেন। তিনি ছাত্র জীবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ,নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক জেলা সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি সামাজিক সংগঠনগুলোর মাঝে ময়মনসিংহ আল ইসলামি ট্রাস্ট এর সাবেক সভাপতি, আল মানার এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আলহেরা একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুলবাড়িয়ার প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছেন।একজন শিক্ষিত ও ভদ্রলোক এবং মানুষের সাথে তার ভালো আচার-আচরণ নির্বাচনী মাঠে তাকে আলোচিত করে রেখেছে। অনেকেই জানিয়েছে অধ্যাপক জসিম উদ্দিন  ভদ্র মানুষ হওয়ায় আসন্ন নির্বাচনে তিনি হেভিওয়েট প্রার্থী হিসাবে মাঠ দখল করে আছেন। তিনি একজন সৎ আদর্শবান ব্যক্তি হওয়ায় নির্বাচনী মাঠে দিন-দিন ভোটের পাল্লা তার দিকেই ঝুকছে।
দল থেকে তাকে বহিস্কৃত করা হলেও একজন মানবিক ও শিক্ষিত ভদ্রলোক হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পেশাশ্রেণীর মানুষের দাবীর প্রেক্ষিতে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতীক নিয়ে  প্রচারণা শুরুর দিন থেকেই সামাজিক  নেতাকর্মীরা তার পক্ষে উপজেলার বিভিন্ন  পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, নারী ও তরুণ ভোটারদের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে জসিমের ন্যায়নীতির বার্তা ও নানা প্রতিশ্রুতি। অনেক জায়গায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘোড়া মার্কার লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
সন্ধ্যা নামলেই বসছে উঠান বৈঠক। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসছে দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম ও আইন-শৃঙ্খলার মতো বিষয়।
এদিকে প্রচার-প্রচারণায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে তরুণরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক লাইভ, ছোট ভিডিও আর গ্রুপভিত্তিক প্রচারের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগে নেমেছে বিভিন্ন পেশাশ্রেণীর ব্যক্তিবর্গ ও তরুণ-তরুণীরা। তাদের দাবি, এবারের নির্বাচনে তরুণদের ভোটই মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই খেলাধুলার মাঠ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও চলছে প্রচার।
গ্রামের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত সরকারের সময় তারা দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন পাননি। তাই এবার অনেকে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ভোটের মাঠে যেতে আগ্রহী।
উপজেলার কয়েকজন শ্রমিক ভোটার বলেন, “আমাদের এখানে কেউ আসে না। প্রয়োজনে আমাদেরকেই যেতে হয়। আমার গ্রাম অবহেলিত। কেউ আমাদের কথা রাখে না। আমাদের এলাকায় সবারই ভোট আছে।  বিএনপি ও একটি বৃহৎ দল। তার পরেও আমাদের এলাকায় ঘোড়ার  ভোট সবচেয়ে বেশি। যিনি আমাদের কথা শুনবে, আমরা তাকেই ভোট দেব। প্রার্থীদের এবার শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই চলবে না, তা বাস্তবায়ন করতে হবে।সেক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মত সৎ ও যোগ্য প্রার্থী অধ্যাপক জসিম উদ্দিন। আমরা তাকেই ভোট দেবো। এর আগেও তাকে বিজয়ী করতে আমরা চেষ্টা করেছি কিন্তু ভোট চুরদের কারণে জসিম উদ্দিন স্যার নির্বাচিত হয়ে পারেনি। বর্তমান সরকার যেহেতু কড়া নিয়ম করেছে তাই আমরা আশাবাদী আমাদের ভোটে এবার তিনি বিজয়ী হবেন।
উপজেলার একজন শিক্ষক নেতা বলেন, ময়মনসিংহ-৬ আসনের জনগণ অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। কারণ যারা নির্বাচন করছেন, তারা প্রত্যেকেই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং ভালো মানুষ। আমাদের প্রত্যাশা, যারা আমাদের কথা ভাববে, আমরা তাকেই ভোট দেব। তবে জসিম উদ্দিন স্যার ক্লীন ইমেজের দিক থেকে সবার চেয়ে এগিয়ে।
শিবগঞ্জ গ্রামের একজন নারী ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পরিবারের নিরাপত্তা আর সন্তানদের ভবিষ্যৎই আমাদের প্রধান ভাবনা। সুতরাং অধ্যাপক জসিম উদ্দিন স্যার একজন ভালো লোক, আমরা তাকেই ভোট দেব।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা  বলেন, ফুলবাড়িয়া উপজেলায় জামায়াতে ইসলামী বলতে আমরা জসিম উদ্দিন স্যারকে জানতাম,তিনি দুঃসময় দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন,উপজেলায় জামায়াতে ইসলামী আজ যে শক্তিশালী অবস্থানে আছে সেটা তারই অবদান, কিন্তু দল তার প্রতি কেনো এরকম অবিচার করলো জানিনা, তবে তিনি যদি চলমান নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী থাকতেন তাহলে জামায়াতে ইসলামী এই আসনটা এবার আরো সহজেই দখলে নিয়ে বিজয়ী হতে পারতেন।তিনি আরও বলেন-সতেরো বছর পর দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ জন্য আমাদের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। জামায়াতে ইসলামী যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার দ্বারা বিজয় সম্ভব নয় বলে আমরা জসিম উদ্দিন স্যারের পক্ষে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের নিয়ে  ঘোড়া প্রতীকের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। কোনো ধরনের সহিংস প্রচারণা আমরা চালাচ্ছি না।”
ময়মনসিংহ-৬ আসনের স্বতন্ত্র  প্রার্থী অধ্যাপক জসিম উদ্দিন  বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে সবার আগে আমার নির্বাচনী এলাকায় সুশাসনের দিকে নজর দেব। প্রত্যেকটা সরকারি দপ্তর ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত করব। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সবক্ষেত্রে উন্নয়ন করব।”
ময়মনসিংহ-৬  আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ১৭ হাজার ৯শত ২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ১০হাজার ৩৩০জন এবং মহিলা ভোটার ২লক্ষ ৭হাজার ৫৯৫জন ও ২ জন হিহরা ভোটার রয়েছে। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২১টি।
সব মিলিয়ে, উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামে গ্রামে, মহল্লায় মহল্লায় ঘোড়া মার্কার প্রচারণা এখন তুঙ্গে। নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কর্মীদের তৎপরতা আর ভোটারদের কৌতূহল। ভোটের রায়ই বলে দেবে গ্রামবাংলার এই মুখরতা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।
আসনটিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী সহ সর্বমোট ৫ জন প্রার্থী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন তারা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আকতারুল আলম ফারুক (ধানের শীষে), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কামরুল হাসান মিলন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী নুরে আলম ছিদ্দিকি (হাতপাখা), সাবেক এমপি শামসুদ্দিন আহমেদ এর স্ত্রী আকতার সুলতানা (স্বতন্ত্র) ফুটবল। এদের মাঝে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক জসিম উদ্দিন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসাবে রয়েছে আকতার সুলতানা, আকতার সুলতানার স্বামী মরহুম শামসুদ্দিন আহমেদ বিএনপির সাবেক এমপি হওয়ায় বিএনপির সাবেক বর্তমান অনেক নেতাকর্মীরা  গোপনে ও প্রকাশ্যে  তার স্ত্রী আকতার সুলতানার পক্ষ নেওয়ার বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পরাজয় দেখছে অনেকে। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর অহংকার ও দ্বাম্বিকতার কারণে তিনি জনতার এমনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছেও আশানুরূপ প্রার্থী না হওয়ায় ভোটের দৌড়ে পিছিয়ে আছেন এমনটাই জানিয়েছেন উপজেলর বিভিন্ন পেশাশ্রেণীর ব্যক্তিবর্গরা।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com