গৌরনদীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাহিলাড়া অনন্ত নারায়ণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান–২০২৬।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বর্ণিল সাজসজ্জা, ক্রীড়ার প্রতীক অলিম্পিক রিং ও মশালচিত্রে সজ্জিত মঞ্চ সবার নজর কাড়ে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উত্তম অধিকারীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মেহেদী হাসান, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান, প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক সোলায়মান তুহিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ রুবেল গমস্তা, ছাত্র প্রতিনিধি হাফিজা প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম বলেন, “শিক্ষা কেবল বইয়ের পাঠে সীমাবদ্ধ নয়; সহশিক্ষা কার্যক্রম একজন শিক্ষার্থীর মানবিক গুণাবলি, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ সমাজ গঠনে সহায়ক। মাহিলাড়া অনন্ত নারায়ণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এ আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।”
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থীরা দৌড়, লং জাম্পসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পর্বে নাচ, গান, আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল প্রতিভার উজ্জ্বল পরিচয় দেয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শনী (ডিসপ্লে) স্টলও সাজানো হয়, যা অতিথিরা ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল উপস্থাপনা দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে অতিথিবৃন্দ পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার বিতরণী পর্বটি ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ, যেখানে বিজয়ীদের উচ্ছ্বাস ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
বক্তারা বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত করে এবং সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে সহায়তা করে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ ও দলগত মনোভাব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠান শেষে অভিভাবক ও অতিথিরা বিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল, নান্দনিক ও প্রাণবন্ত আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।