1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কয়রায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহনে অভিযোজন পরিকল্পনা বাগেরহাটের মোংলায় মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ২ চাঁদপুরে জামায়াতের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল ঝিনাইদহে ছাত্র নেতার হত্যা কান্ডে উত্তাল মোল্লা সালেহ’র প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হুব্বাঞ্জলি’র মোড়ক উন্মোচন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ধামইরহাটে যথাযোগ্য মর্যদায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন ৭৫০ পরিবারের মাঝে শ্রীমঙ্গল এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ লালমোহনে বিলুপ্তির পথে দৃষ্টিনন্দন ঢোল কলমি গাছ বেরোবিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

মোল্লা সালেহ’র প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হুব্বাঞ্জলি’র মোড়ক উন্মোচন

মিয়া সুলেমান 
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে
কবি, গল্পকার, অনুবাদক সহ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কবি মোল্লা সালেহ’র প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হুব্বাঞ্জলি’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রবিবার বিকাল ৩.৩০ মিনিটে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এর হলরুমে জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে উক্ত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
শ্রীরামপুর মোজাদ্দেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক নাহিদা আক্তারের উপস্থাপনায় এবং বিএমটিটিআই-এর কর্মকর্তা পরিষদের সম্পাদক মুহাম্মদ আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমটিটিআই এর অধ্যক্ষ প্রফেসর মাহমুদুল হক।
অতিথিরা কবি মোল্লা সালেহকে তার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় সফলতা অর্জনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সাহিত্যে চর্চায় আরো বেশি অবদানের আশা করেন। এসময় বিএমটিটিআই এর অন্যান্য প্রশিক্ষকবৃন্দ ও শতশত প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কবির বক্তব্যে সাহিত্য চর্চায় আসার পেছনে তার শিক্ষক বাবা ও তার জীবনের সংগ্রামের কথা স্বরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এর আগে কবির দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য চর্চায়  প্রকাশিত হুব্বাঞ্জলি’র বিশ্লেষণ মূলক আলোচনায় অংশ নেন কবি অন্তত পৃথ্বীরাজ,  কবি জেসমিন অরিন ও কবি মামুন সুলতান। 
কবি মামুন সুলতান বলেন, “হুব্বাঞ্জলি কবি মোল্লা সালেহ’র প্রথম গ্রন্থ হলেও কবির কাব্যিক জীবন বহুদিনের। স্কুল জীবন থেকে তিনি লেখালেখি করছেন। তাই তাঁর লেখা শিল্পগুণে পরিপূর্ণ। এই গ্রন্থে তিনি নানান বিষয়ে কবিতা লিখেছেন। বিষয়বৈচিত্র‍্যে বহুমাত্রিকতা আছে। প্রকাশভঙ্গিতে আছে চমকপ্রদ অনুষঙ্গ। আছে ভাববিষয়ের অপূর্ব মিথস্ক্রিয়া। কাব্যগ্রন্থের নামকরণেও আছে ব্যতিক্রমী শব্দচয়ন। কবিতার আঙ্গিনায় টিকে থাকার জন্য চরম ধৈর্য ও অধ্যবসায়ী হতে হবে।   বাংলা সাহিত্যে এই পথচলাকে সাধুবাদ জানানো দরকার।” 
কবি অন্তত পৃথ্বীরাজ বলেন, “মোল্লা সালেহ’র ‘হুব্বাঞ্জলি’ রূপকের আড়লে জীবনের প্রতিচ্ছবি। কবিতাগুলো পড়া শুরু করতেই অপার মুগ্ধতায় আমি হারিয়ে যেতে থাকলাম এক ভিন্ন জগতে। যে জগৎ মূর্ত ও বিমূর্ত ভাবনার। যেখানে চেতন অথবা অবচেতন মনে স্বপ্ন, কল্পনা আর নিখুঁত বাস্তবতার মুখোমুখি মানুষকে দাঁড় করিয়ে দেয়। কবি মোল্লা সালেহ-র কবিতাগুলোর পরতে পরতে রয়েছে শিল্পের কারুকার্য। একবিংশ শতকের দ্বিতীয় দশকে লেখা কবিতাগুলোর উৎসস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল এবং সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার উলিপুর ও আড়ংগাইল গ্রাম, যেখানে কবির জন্ম ও শৈশব এবং শিক্ষাজীবনের স্বপ্নিল ও সোনালি দিনগুলো কেটেছে। ‘হুব্বাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। ‘সাহিত্যদেশ’ প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থটির অনিন্দ্য-সুন্দর ও পরিপাটি প্রচ্ছদটি এঁকেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত। মূল্য মাত্র দুইশ টাকা। 
কবি মোল্লা সালেহ’র কবিতা আমাদেরকে কাব্যিক পরমানন্দের দিকে ধাবিত করে। তাঁর প্রতিটি কবিতা বিষয় বৈচিত্র্য, জীবন-দর্শনে রয়েছে নতুনত্বে ছাপ। কবিতাগুলো একবার পড়লে আমাদের যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখের আভাস পাওয়া যায়। প্রথম পাঠে হয় তো, পাঠকগণ আর দশটি কবিতাগ্রন্থের মতোই সাধারণ কবিতা হিসেবে গ্রন্থটিকে বিবেচনা করতে পারে। তবে, সাহিত্য-সমালোচক, অনুসন্ধানী ও বোদ্ধা পাঠকগণ সর্বদা সাধারণের মধ্যেও অসাধারণ ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের সন্ধান করেন। নিবিড় পাঠ ও শিল্প-পরিচর্যায় কবি মোল্লা সালেহ-র কবিতার বিষয়বৈচিত্র, ছন্দ-অলংকার ও ভাষার ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিনব কারুকাজ এবং মৌলিকত্বের ছাপ পরিলক্ষিত হয়। বাংলা সাহিত্যের মহাকালিক অভিযাত্রায় কবিকে স্বাগত জানাই। ‘হুব্বাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থে মুদ্রণজনিত ছোট ছোট অসংগতিগুলো বাদ দিলে এ-কথা দ্বিধাহীনভাবে বলা যায় যে, কবি মোল্লা সালেহ-র এই অভিষেক বাংলা ভাষা ও কবিতার ধারায় নতুন-দিগন্তের উন্মোচন করবে।”
প্রধান অতিথি বক্তব্যে প্রফেসর মাহমুদুল হক বলেন, “কবি মোল্লা সালেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের আরবি বিভাগের ছাত্র। আমিও একই বিভাগের ছাত্র। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্য হল আরবি সাহিত্য। কবির কাব্যে যে আরবির প্রভাব বিদ্যমান কাব্যগ্রন্থের নামকরণের দিকে তাকালে তা সহজেয় অনুমেয়।”
পরে অনুষ্ঠানের সভাপতি মুহাম্মদ আরিফুর রহমানের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। তিনি বলেন, “কবি মোল্লা সালেহ’র হুব্বাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের অধিকংশ কবিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলে লেখা। আমি নিজেও ছাত্র অবস্থায় দীর্ঘদিন এই হলে ছিলাম। বইয়ের কবিতাগুলো ছাত্র অবস্থায় লেখা। আমরা বিশ্বাস করি তিনি হারিয়ে যাননি। এখনও তাঁর লেখা অব্যাহত আছে। আশা করি বর্তমান সময়ে লেখা কবিতা নিয়ে অচিরেই তিনি আমাদেরকে নতুন কাব্যগ্রন্থ উপহার দিবেন।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com