যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর এলাকার কৃতি সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার আলবিরুণী রুমি আর নেই। গতকাল দিবাগত মধ্যরাতে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন সকালে আলবিরুণী রুমি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত ২০ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন সকালে নিজ বাড়িতে তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে আজ ২৯ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।চিকিৎসকরা জানান, তিনি ‘ইন্টারনাল ব্রেন হেমারেজ’ (মস্তিষ্কে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ)-এ আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি এক ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলবিরুণী রুমি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। অবসর গ্রহণের পরও তিনি সামাজিক, মানবিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তিনি হামিদপুর শিকদারপাড়া শাহী মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নবনির্মিত তার বাড়ির নৈকট কাছাকাছি একটি মাদ্রাসা নির্মাণের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছিলেন।
আজ জোহর নামাজের পর হামিদপুর শিকদারপাড়া শাহী মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন