লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় মামলা করায় বাদীপক্ষের বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়ার পর এবার বন ও ফলজ ২৬টি গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামিদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার পর ১৬ মাস পার হলেও নিরাপত্তার কারনে বাড়ীঘর ছাড়া দুটি দিনমজুর পরিবার। সরেজমিন ওই বাড়ীতে গিয়ে অগ্নিসংযোগ করা বসতঘর ও গাছ কাটার ছবি ও ভিডিও করতে গেলে সাংবাদিকদের বাধার সৃষ্টি করে নারীসহ অভিযুক্তরা। পরে স্থানীয় মেম্বার ও কয়েক ব্যাক্তি এসে পরিস্থিতি শান্ত করেছেন।
সোমবার দুপুরে (২ ফেব্রুয়ারী) উপজেলার দক্ষিণ উদমারা গ্রামের লাঠিয়াল এলাকায় মাঝি বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটেছে।
মামলার বিবরনে ও পুলিশ জানান, কয়েক বছর ধরে দিনমজুর আদম আলীদের সঙ্গে একই এলাকার বাশার পক্ষের প্রায় ২০ লাখ টাকা মুল্যের এক একর জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। ২০২৫ সালের ২৯ জুন রাতে উদমারা গ্রামের অধিকারী বাড়ি এলাকায় আদম আলীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তাক্ত জখম অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় ৩০ জুন আদম আলীর ছোট ভাই ইব্রাহীম বাদী হয়ে রায়পুর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এ প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মোঃ বাশার ও রহম আলীকে গ্রেফতার করে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সফিক, হুমায়ুন, সুজন, দেলোয়ার, শিবলু, চাঁন ভানু, আনোয়ারা বেগম ও তহির। গত ৫ জুলাই মামলার জের ধরে অন্য আসামিরা আদম আলীর টিনসেড বসতঘরটি আগুন দিয়ে আসবাবপত্র, খুঁটিসহ সব পুড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় ১০টি ফলজ গাছ পুড়ে গেছে। এঘটনার পর থেকে গত ১৬ মাস বাড়ি ছেড়ে স্বজনদের বাড়ীতে আশ্রয়ে অসহায় জীবনযাপনে ইব্রাহিম ও আদম আলি পরিবার।
মামলার আসামি কোহিনুর বেগমের দাবি, তারা আদম আলীর ঘরে আগুন দেননি। বাদী পক্ষরাই ঘরটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত আবুল বাশার ও রহম আলীসহ আসামি সবাই একই বক্তব্য দিয়েছে।
রায়পুর থানার ওসি শাহিন মিয়া বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। থানায় অভিযোগ করেছেন। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখবো।