লালমনিরহাট রেলওয়ের জমির রাজস্ব আদায়ের নামে চলছে তুঘলকি কারবারড় এমন অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে-এর লালমনিরহাট বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ মনজুর হোসেনের বিরুদ্ধে। নীতিমালা উপেক্ষা করে অফিসে বসেই বাণিজ্যিক লাইসেন্স প্রদানের নামে মোটা অঙ্কের নগদ অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। যদিও অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার ৮৪টি স্টেশন এলাকা লালমনিরহাট রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের আওতাধীন। এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে শত শত দোকানপাট। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার রনিউল ইসলাম ও ফজলে রহমানের কাছ থেকে যথাক্রমে ১ লাখ ২৫ হাজার এবং ৮৪ হাজার টাকা নগদ গ্রহণ করা পরবর্তীতে হয়। কিন্তু অফিসের কর্মচারীর মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংক, লালমনিরহাট শাখায় ৬টি সরকারি এ-চালানের মাধ্যমে যথাক্রমে ৫৩ হাজার ও ৩৬ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। বাকি অর্থের কোনো হিসাব বা রশিদ দেওয়া হয়নি। তাদের হাতে যে ‘লাইসেন্স’ তুলে দেওয়া হয়, তা মূলত রেলওয়ের এস্টেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে এন্ট্রিকৃত তথ্যের একটি প্রিন্ট কপি মাত্র বলে দাবি করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি কোষাগারে জমার রশিদ বারবার চাইলেও তা দেয়া হয়নি। লাইসেন্স ইস্যুর নথিপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২০ অনুযায়ী অবৈধ দখল উচ্ছেদ, লীজযোগ্য ভূমির বাংলাদেশ রেলওয়ের
তালিকা প্রস্তুত এবং মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নপূর্বক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাণিজ্যিক লাইসেন্স প্রদানের বিধান রয়েছে। নীতিমালার অনুচ্ছেদ ১৫(খ) অনুযায়ী নির্ধারিত উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কাজে রেলভূমি ব্যবহার করলে লাইসেন্স বাতিলসহ উচ্ছেদ এবং প্রতি বর্গফুটে তিনগুণ জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, নীতিমালার সাংঘর্ষিক ব্যাখ্যা ব্যবহার করে কৃষি জমির শ্রেণি
পরিবর্তন করে বাণিজ্যিক লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে এবং মাত্র এক বছরের রাজস্ব জমা দেখিয়ে বহু বছরের বকেয়া গোপন রাখা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, লাইসেন্সবিহীন দোকানে তালা ঝুলিয়ে জোরপূর্বক অফিসে ডেকে এনে দ্বিগুণ বা তিনগুণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উচ্ছেদ ও মামলা করার হুমকিও দেওয়া হয়। আদায়কৃত অর্থ লীজগ্রহীতাদের নিজে ব্যাংকে জমা দিতে না দিয়ে অফিস সহকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মাধ্যমে আংশিক অর্থ জমা করানো হয়। রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের ভূ-সম্পত্তি অফিসের অফিস সহকারী জাবের হোসেন ও ফিল্ড কানুনগো সিদ্দিকুর রহমান এ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছেন। তবে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযুক্ত বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ মনজুর হোসেন নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, অভিযোগ থাকলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন। তিনি নগদ অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে অডিও রেকর্ডে শোনা যায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পঞ্চিমাঞ্চল-এর চীফ এস্টেট অফিসার মো. নাদিম সরোয়ার এবং লালমনিরহাটের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।