চাঁদাবাজি–দখলবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেনের বেপরোয়া হামলা, নীরব শীর্ষ নেতৃত্ব—জনমনে তীব্র ক্ষোভ
নোয়াখালীর বৃহত্তর উপজেলা হাতিয়া তথা নোয়াখালী-০৬ আসনে এখন রাজনীতি নয়—চলছে ক্ষমতার মাফিয়াতন্ত্র। এখানে আদর্শ নেই, শৃঙ্খলা নেই, দল নেই—আছে শুধু ভাইয়ের দাপট আর সন্ত্রাসের রাজনীতি। আর সেই অন্ধকার রাজনীতির সবচেয়ে ভয়ংকর বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার নলচিরা ঘাটে ফেরি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফেরিতে ওঠার সময় এনসিপি সমর্থিত কয়েকজন ব্যক্তি দলীয় স্লোগান দিলেই যুবদল নেতা ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস যেন হিংস্র হয়ে ওঠেন। কোনো আলোচনা নয়, কোনো সতর্কতা নয়—সোজাসুজি নিজের বাহিনী নিয়ে হামলা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য আরও ভয়ংকর।
“ইসমাইল হোসেন প্রথম গলা চেপে ধরে, এরপর এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। পরিস্থিতি শান্ত করতে আসা মাদ্রাসার দুই কিশোর ছাত্রকেও (বয়স ১৫ ও ১৬) ছাড় দেয়নি। এটা রাজনীতি না—এটা খাঁটি সন্ত্রাস।”
এই বর্বরতায় একজন গুরুতর আহত হন, অথচ আশ্চর্যজনকভাবে এখনো কোনো সাংগঠনিক তদন্ত তো দূরের কথা, নোটিশ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয়েছে, ইসমাইল হোসেন একা নন। তিনি রাজনীতি করেন মাহবুবুর রহমান শামীমের প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায়—যিনি একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নোয়াখালী-০৬ আসনের মনোনীত প্রার্থী।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রশ্ন—
– শামীম সাহেবের আশ্রয় না থাকলে একজন যুবদল নেতা কীভাবে দিনের আলোতে শিশু-কিশোর পিটিয়ে পার পেয়ে যান?
চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন ইসমাইল হোসেন অচ্ছুত?
একাধিক সূত্র জানায়, যে কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই তার কণ্ঠ চেপে ধরা হয়। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় ভয় তৈরি করা হয়েছে। নেই কোনো সভা, নেই কোনো কমিটি সভার সিদ্ধান্ত—সবকিছু চলে ইসমাইলের ইচ্ছায়।
স্থানীয়দের মুখে এখন একটাই কথা—
“হাতিয়ায় আইন চলে না, দল চলে না—চলে ইসমাইলের হুকুম।”
এর ফলাফল ভয়াবহ। সাধারণ মানুষ ধানের শীষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোণঠাসা, আর মাঠ দখলে নিয়েছে সুবিধাভোগী, সন্ত্রাসী চক্র।
সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখন রাজপথে ঘুরছে—
তারেক রহমান যে ‘I have a plan’ বলেছিলেন, এই সন্ত্রাস, এই মাফিয়াতন্ত্র, এই শিশু পেটানো রাজনীতিই কি সেই পরিকল্পনার অংশ?
নাকি হাতিয়ার মতো এলাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ধ্বংস করে কিছু দাপুটে ব্যক্তিকে রক্ষা করাই এখন বিএনপির নতুন নীতি—সে প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ই দাবি করছে।