সরেজমিনে গিয়ে ও মোবাইলে ধারণকৃত ফুটেজে জানা ও দেখা যায়, আওয়ামিলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ বিএম মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া পন্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ক্যান্ডিডেট সাইদুর চৌকিদার সাংবাদিক ইমরানকে তাদের বিরুদ্ধে নিউজ করায় বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে স্থানীয় বাবুল কাজীর ছেলে জিহাদ কাজী(২২) সাংবাদিকের মোবাইল ছনিয়ে নিয়ে সাইদুর চৌকিদার ও জিহাদ প্রথমে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালায়। এরপর জিহাদ কাজী ছাত্রলীগের আরেক সন্ত্রাসী পৌর কমিটির সহ-সভাপতি রওনক মুন্সিকে ডেকে আনে। এরপর সাংবাদিক ইমরানের গলা চেপে ধরে প্রায় ১২-১৫ জন এলোপাথাড়ি মারতে থাকে সাংবাদিক ইমরানকে।
এক পর্যায়ে সাংবাদিক ইমরান হোসাইন অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে গিয়ে উল্লাস করে সাংবাদিক ইমরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল করে ওই সন্ত্রাসীরা। তবে ঘটনার প্রায় এক ঘন্টা পরে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ হাসপাতালে গেলেও সন্ত্রাসীরা হাসপাতাল ও হাসপাতাল মোড়ে অবস্থান করলেও তাদের কাউকেই গ্রেফতার করেনি পুলিশ। বরং নিরাপত্তাহীনতা জানানোর পরেও হাসপাতাল থেকে থানায় গিয়ে আগে অভিযোগ দিতে বলা হয় এবং সন্ত্রাসীদের সুযোগ করে দেয়া হয়।
উল্লেখ্যঃ সাংবাদিক ইমরান গত প্রায় দুই বছর পূর্বে জাজিরা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এই দালাল চক্রের বিরুদ্ধে একাধিকবার নিউজ করেন এবং এই পর্যন্ত চারবার এদের দ্বারা হামলার শিকার হন। এমনকি ষড়যন্ত্র করে বিভিন্নভাবে সাংবাদিক ইমরানকে ফাঁসিয়ে দেয়ার চেষ্টাও করে একাধিকবার। এদের বিষয়ে জাজিরা থানায় একাধিকবার জিডি ও অভিযোগ করা হলেও এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি কখনও। সম্প্রতি আবারও এই সন্ত্রাসীদের নিয়ে নিউজ করায় তার উপর এই অতর্কিত হামলা করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ইমরান হোসাইন বলেন, বাসা থেকে আমার অফিসে যাওয়ার সময় মোহর আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে একজন চা খেতে ডাকলে সেখানে নামা মাত্রই সাইদুর চৌকিদার এসে তাদের বিরুদ্ধে নিউজ করায় হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। এসময় বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে আমার মোবাইল কেড়ে নিয়ে আমার উপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করে আমাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। তবে, স্থানীয় কয়েকজন পথচারী আমাকে উদ্ধার করে একটি ভ্যানে উঠিয়ে দিলে ভ্যানওয়ালা হাসপাতালে দিয়ে যায়। পরে একজনের মাধ্যমে আমার একটি মোবাইল উদ্ধার করতে সক্ষম হই।
এ বিষয়ে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের কাউকেই বক্তব্যের জন্য পাওয়া যায়নি।
শরীয়তপুরের অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) তানভীর হোসেন থানায় অভিযোগ নিয়ে মামলা দায়ের করার জন্য বলেন। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের যাবতীয় তথ্যাদি প্রদান করার জন্য বলেন।