নাটোরের সিংড়া উপজেলায় জিয়া পরিষদের সদস্য ও ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিমকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি আব্দুল করিমকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারী) রাতে কলম ইউনিয়নের নাছিয়ার কান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তার গ্রেফতারে- এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আব্দুল করিম নাছিয়ারকান্দি গ্রামের মৃত পঁচাই প্রামাণিকের ছেলে। এলাকায় তিনি কুখ্যাত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.স.ম আব্দুন নুর গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ পর্যন্ত এই হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে ১৫ থেকে ১৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি রাতে কলম কুমারপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে হাঁটতে বের হলে সন্ত্রাসীরা সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিমের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে এবং গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং শিক্ষাঙ্গনসহ রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত রেজাউল করিম কুমারপাড়া গ্রামের ছাবেদ আলী ব্যাপারীর ছেলে। তিনি বিলহালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি জিয়া পরিষদের সক্রিয় সদস্য এবং ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থীর কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের একদিন পর নিহতের ভাতিজা হাসানুর রহমান বাদী হয়ে সিংড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় আব্দুল করিমকে। এরপর থেকেই তাকে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। অবশেষে রোববার গভীর রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
এলাকাবাসী জানান, আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। তার গ্রেফতারে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাশাপাশি পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে একজন শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুতে পুরো সিংড়া উপজেলায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।