1. infoobayedcommunicationit@gmail.com : obayed it : obayed it
  2. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
  3. bot@local.invalid : Service Bot :
  4. infoobayed@gmail.com : infoobayed :
রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ উন্নয়ন…মুশফিকুর রহমান এমপি অনৈতিক সম্পর্কের কথা জেনে ফেলায় প্রলোভন দেখান এমপি গাজী নজরুল এবার হামলা হলে জবাব হবে আরও বড় পরিসরে, হুঁশিয়ারি ইরানের যেকোনো মুহূর্তে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, শেষ মুহূর্তে আলোচনায় যারা বাংলাদেশের ডিআরএস নিয়ে মন্তব্য আম্পায়ারের সতর্কবার্তায় ফের বিতর্কে স্মিথ নিজ মাথায় গুলি করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার আত্মহত্যা বিএনপির রাজনীতির মূল শক্তি জনগণ: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম পূর্ণ মন্ত্রী’র দায়িত্ব পাওয়ায় জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ও বকশীগঞ্জে আনন্দ মিছিল ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ১০টি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি স্থগিত ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের গভীর রাতের মশাল মিছিল, ভিডিও ভাইরাল

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

মোঃ ফরহাদ হোসেন রাসেল
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ২৭৩ বার পড়া হয়েছে

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বজুড়ে আজকের দিনটি কেবল উদযাপনের নয়, আত্মসমালোচনা ও অঙ্গীকারেরও। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘অধিকার, ন্যায়বিচার, উদ্যোগ সব নারীর জন্য হোক’। এই আহ্বান আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সমতার পথে অগ্রগতি হলেও এখনো অসংখ্য নারী তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই শুধু প্রতীকী সম্মান নয়, প্রয়োজন বাস্তব পরিবর্তন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস শতবর্ষেরও বেশি পুরোনো। ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নারী শ্রমিকেরা কর্মঘণ্টা কমানো, ন্যায্য মজুরি ও ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের প্রস্তাব ওঠে। ১৯১১ সালে প্রথমবারের মতো কয়েকটি দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়। পরে ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। তখন থেকেই দিনটি বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকার ও সমতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

 

এবারের প্রতিপাদ্যে তিনটি শব্দ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার, ন্যায়বিচার ও উদ্যোগ। অধিকার মানে কেবল আইনে স্বীকৃতি নয়, বাস্তবে সেই অধিকার ভোগের সুযোগ। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এসব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে নারীর উন্নয়ন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এখনও বিশ্বের অনেক দেশে নারী শিক্ষার সুযোগ সীমিত, কর্মক্ষেত্রে সমান মজুরি পান না, কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে অংশ নিতে পারেন না। অধিকার প্রতিষ্ঠা মানে এসব বাধা দূর করা।

ন্যায়বিচার মানে বৈষম্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার। গার্হস্থ্য সহিংসতা, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ এসব শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, মানবাধিকার লঙ্ঘন। আইন প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার সঠিক প্রয়োগ আরও জরুরি। একজন নারী যদি অন্যায়ের শিকার হন, তবে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করাই সভ্য সমাজের দায়িত্ব।

 

আর উদ্যোগ মানে নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ। শুধু সমস্যা চিহ্নিত করলেই হবে না; প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, অর্থনৈতিক সহায়তা, প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীদের জন্য আলাদা উদ্যোগ জরুরি, যাতে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছায়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী দিবসের গুরুত্ব আলাদা মাত্রা পায়। কেননা দেশে নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পে লাখো নারী দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রেও মেয়েদের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। ক্ষুদ্রঋণ ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। কিন্তু এখনো বাল্যবিবাহ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক কুসংস্কার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। তাই এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের জন্য বিশেষ প্রাসঙ্গিক অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে উদ্যোগ টেকসই হয় না।

নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নারীর অগ্রগতি মানে কেবল নারীর নয়, পুরো সমাজের অগ্রগতি। পরিবারে সমান দায়িত্ব বণ্টন, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যহীন পরিবেশ, এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ এসব নিশ্চিত হলে উন্নয়ন আরও গতিশীল হয়। ছেলে ও মেয়েকে সমানভাবে বড় করে তোলা, তাদের স্বপ্ন দেখতে শেখানো পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com