গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের মান্দুরা গ্রামে দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি ও বসতঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী রহমত উল্লাহ শামীম।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখে মান্দুরা গ্রামে হেবা দলিল কৃত ভোগদখলীয় জমি ও বসতঘরে শাকিবুর রহমান মিশু, জাকিয়া আফরোজ জেরিন, হোসনে আরা স্বপ্না, শরিফুল ইসলাম, ডেইজি বেগম, মাহিদুলসহ আরও ১৫-২০ জন দলবদ্ধভাবে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বসতঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে জমি দখলে নিয়ে নতুন করে বাঁশের বেড়া দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রহমত উল্লাহ শামীম বলেন, তার মোট ১ একর ২৫ শতাংশ জমি খারিজ করা এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ শতাংশ জমি প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক দখলে নিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। ঘটনার পর তিনি সাঘাটা থানায় অভিযোগ করলে থানার এসআই উজ্জ্বল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন।
জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় রহমত উল্লাহ শামীম ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ১০৭ ও ১৭ ধারায় মামলা করেছেন বলেও জানান। তার দাবি, গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রতিপক্ষরা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার মুচলেকা দিয়ে আদালত থেকে বের হন। কিন্তু মুচলেকা দেওয়ার পরও তারা ওই জমিতে দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, তিনি জমিটি অন্য কারও কাছে বিক্রি করতে গেলে প্রতিপক্ষরা বাধা সৃষ্টি করেন। জমি বিক্রি ঠেকাতেই প্রতিপক্ষরা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছেন বলে দাবি তার। এছাড়া বসতঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ঘটনার পর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রহমত উল্লাহ শামীম দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করেই একটি পক্ষ জমিটির একটি অংশ দখলে নেয় বলে তারা জানান।
রহমত উল্লাহ শামীমের পিতা মৃত নুরুল ইসলাম। তাদের স্থায়ী বাড়ি বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার বড় বালুয়া গ্রামে। ভুক্তভোগীর দাবি, বাড়ি অন্য জেলায় হওয়ায় প্রতিপক্ষরা তার ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে রহমত উল্লাহ শামীম প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগটি সুষ্ঠু তদন্ত করে তার দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি ও বসতঘর রক্ষা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।