সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর যৌথ অভিযানে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার দুর্ধর্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক চোরাচালান চক্রের এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে তার বাড়ি থেকে অস্ত্র ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর একটি যৌথ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামনগর থানার নিদয়া গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে মোঃ হাবিবুর রহমান (৪০)-এর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বাড়ির ধানের গোলা তল্লাশি করে ০১টি দেশীয় পিস্তল, ০৩টি রামদা এবং ০১টি এসএস পাইপ উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির পক্ষে অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেজর সুস্মিত শোভন দাস, এএমসি মেডিকেল অফিসার, নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)। সেনাবাহিনীর পক্ষে অভিযানে নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন নাহিদ।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মোঃ হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে শ্যামনগর উপজেলার নিদয়া এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল। সে এলাকায় ভয়ভীতি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
সেনাবাহিনী ও বিজিবির এই সফল যৌথ অভিযানে এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার হওয়ায় নিদয়া এলাকাসহ শ্যামনগরের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযান শেষে গ্রেফতারকৃত আসামি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র এবং মালামাল আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ শাহারিয়ার রাজীব, পিএসসি, সিগন্যালস্ জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাস, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান রোধে সেনাবাহিনী ও বিজিবির যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।