বুধবার ২৮ শে জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি বাংলা ক্যালেন্ডারে ১৪ ই মাঘ ১৪৩২ সন। সময়ের পরিক্রমায় সমাজের সর্বস্তরে মানুষের মাঝে যখন সমস্ত খাদ্য দ্রব্যে ভেজালের প্রবণতা প্রকট আকার ধারন করেছে সেখানে খাটি জিনিস খুব দুর্ল্ভ ।
বলা হয়ে থাকে কলা আর পান ঝিনেদার প্রাণ, তবে খাটি খেজুর গুড়ের কদর কম কিসে। আর সেটা যদি কৃষকের সদিচ্ছা আর কসরতের ফসল হয় তবে প্রশংসনীয় তো বটেই । আগের দিন দুপুর থেকেই চলে খেজুর গাছে উঠে বিশেষ প্রক্রিয়ায় রস সংগ্রহের কাজ । ধা-রা-লো পাতলা বড়সর একটা (গাছি-দা) মোটা একটা রশি গাছের সাথে কোমরে বাঁধার জন্যে, একটা ভারী মাটির কলস , একটা বাঁশের তৈরি ঠোঙ্গার মধ্যে আরো একটা ভারী দা সহ অন্যনো সরঞ্জাম সবই কোমরে শক্ত করে বেঁধে নিয়ে খালি পায়ে সরু গাছে উঠতে বেশ সহজ কাজ ও নয়, তার পর আগে থেকেই দীর্ঘ সময়ে তৈরি করা গাছের বিশেষ ক্ষত স্থান যেটাকে (চোখ ) বলে গাছিদের ভাষায় সেটা পাতলা করে কেটে দিলে ফোঁটা ফোঁটা রস মাটির কলসে জমতে থাকে সারারাত ধরে । কাঁক ডাকা কুয়াশা মোড়ানো ভোরে আবারো খালি পায়ে গাছে উঠে নামিয়ে আনা হয় মাটির কলস , রস জাল দিয়ে ঘন হলে তবেই তৈরি হয় খাঁটি খেজুরের গুড় । আবার সেটাকে আরো ঘন করে জ্বালিয়ে এবং বিশেষ প্রক্রিয়ায় সাচে ঢেলে পাটালি তৈরি করতে দেখা যায়। সেটা বিক্রি চলে গাছির সংসার চলে ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া সহ অন্যান্য চাহিদা মেটানোর কাজ।
হরিনাকুন্ডু উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে কৃষকের অসাধ্যকে সাধ্য করার এই কর্মকান্ড লক্ষ্যে করা যায়। সেই সাথে তাদের কঠোর পরিশ্রম আর অসীম ধৈর্যের পরিচয় মেলে, পাওয়া সততার দৃষ্টান্ত । বাজার ভেদে বিক্রি হয় গুড়ের কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আর পাটালি গুড়ের কেজি ৪০০টাকা।