নেত্রকোনা পৌর শহরের ছোট বাজার এলাকায় একটি যৌথ ঠিকাদারি চেম্বার থেকে ফজলুর রহমান নামে এক ঠিকাদারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ওয়াজেদ কমপ্লেক্সে ঘটা এই রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওয়াজেদ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে ফজলুর রহমানের লাশটি হাঁটুভাঁজে দাঁড়ানো অবস্থায় গলায় দড়ি পেঁচানো ছিল। কক্ষের ভেতরের পরিবেশ ছিল অস্বাভাবিক; দরজার খিলান খোলা ছিল এবং কাছেই একটি প্লাস্টিকের চেয়ার ও টেবিল পাওয়া গেছে। বিকেল ৪টা থেকে ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময়ে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। নিহত ফজলুর রহমান গত ১০-১২ বছর ধরে কয়েকজন অংশীদারের সাথে যৌথভাবে ঠিকাদারি করে আসছিলেন। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তাহিরা হালিম বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তাহিরা হালিমের অভিযোগ, ব্যবসায়িক অংশীদারদের কাছে তার স্বামীর প্রায় দেড় কোটি টাকা পাওনা ছিল এবং ওই ব্যবসায় তার আড়াই কোটি টাকার বিনিয়োগ ছিল। কয়েক মাস ধরে পাওনা টাকার জন্য চাপ দিলে অংশীদারদের সাথে তার বিরোধ চরমে পৌঁছায়। তিনি আরও জানান, এর আগেও চেম্বারে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল, যার ফলে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে হাসিখুশি মনে বের হওয়া একজন মানুষ এভাবে হঠাৎ আত্মহত্যা করতে পারেন না। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান: “ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে একে রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হচ্ছে। মামলার ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।” এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে নিহিতের পরিবারের পাওনা অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বজনরা।