নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের মূল ফটকে প্রকাশ্যেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নির্বাচনী ব্যানার টানিয়ে উপজেলা পরিষদের সরকারি নাম ঢেকে দেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি নির্বাচন আচরণবিধি ও প্রশাসনিক শালীনতার চরম লঙ্ঘন।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—নির্বাচনের আগেই খোদ রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পেশীশক্তির প্রকাশ্য প্রয়োগের অভিযোগ উঠলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছেন। প্রশাসনের এমন নির্লিপ্ততা জনমনে প্রশ্ন তুলছে তাহলে আইন কার জন্য? ক্ষমতাবানদের জন্য নাকি সাধারণ জনগণের জন্য?
সরকারি স্থাপনা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত। সেখানে দলীয় ব্যানার টানানো মানে রাষ্ট্রীয় সম্পদকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা, যা গুরুতর অপরাধ। অথচ এসব অনিয়ম চোখের সামনে ঘটলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
জনগণের ট্যাক্স ও ভ্যাটের টাকায় বেতন পাওয়া এসব আমলারা যদি নির্বাচনী অনিয়মের সামনে নীরব দর্শক হয়ে থাকেন, তাহলে জনগণ প্রশ্ন করতেই পারে আমরা কেন ট্যাক্স-ভ্যাট দেব? রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ প্রশাসন দিয়ে জনগণেরই বা কী লাভ?
এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে শেষ আস্থাটুকু আছে, সেটুকুও হারিয়ে যাবে।