ভোলা-৪ (চরফ্যাশন–মনপুরা) আসনে বিএনপি মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন নির্বাচিত হলে চরফ্যাশনকে শান্তির জনপদে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চরফ্যাশন উপজেলার সরকারি টিবি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি কয়ছর আহমেদ কমল।
নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা একটি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে, যারা একদিকে সৎ শাসনের কথা বলে, অন্যদিকে জাল ভোট ও নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিকল্পনা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করছে এবং এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচিতে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এলে মানুষের সম্মান, আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দেশকে মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করা হবে। গত ১৬ বছর ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি এবং ভোটারদের ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।
চরফ্যাশনবাসীর উদ্দেশে নয়ন বলেন, ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হলে এলাকায় মেডিকেল কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার সকল মত ও পথের মানুষ নিরাপদ থাকবেন। ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মনজুর হোসেনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হায়দার আলী লেলিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া, সাবেক পৌর মেয়র আমিরুল ইসলাম মিন্টিজ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন টিপু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সোহেলসহ দলীয় নেতারা।
সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় এবং জনসমাগম পাশের সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।