সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানায় যৌথ পরিকল্পনা পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার আয়োজন করে পারি ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট এবং অর্থায়ন করে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ধর্মপাশা এরিয়া প্রোগ্রাম (এপি)।
ধর্মপাশা থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিশু সুরক্ষা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি অংশগ্রহণ জোরদারের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উপস্থিতিতে পূর্ববর্তী কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরা হয় এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সমল মানিকিন, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, পারি ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট, ধর্মপাশা এপি। তিনি বলেন, কমিউনিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিশুদের সুরক্ষা, কিশোর-কিশোরীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহিংসতা প্রতিরোধে যৌথ পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।
স্কোর কার্ড ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন সুমনা এবং মারুফ হাসান ইমন, সিভিএ ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য। উপস্থাপনায় বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে অর্জিত সাফল্য, চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়নের সুযোগ তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা স্কোর কার্ড বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করেন এবং সমস্যা সমাধানে কার্যকর কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মো. ইমাম হোসেন, ওসি (তদন্ত), ধর্মপাশা থানা বলেন, পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি শিশু ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং বাল্যবিবাহ রোধে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুমন করাম, এপি ম্যানেজার, ধর্মপাশা এপি। তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় ধর্মপাশা এলাকায় শিশু-কেন্দ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, থানা পুলিশ, সিভিল সোসাইটি ও শিশু ফোরামের সক্রিয় অংশগ্রহণ এ উদ্যোগকে আরও গতিশীল করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভা সঞ্চালনা করেন জনাব ইমরুল ইসলাম জিদান, সভাপতি উপজেলা আকাশ ছোঁয়া শিশু ফোরাম ও কোষাধ্যক্ষ ন্যাশনাল শিশু ফোরাম। তাঁর সঞ্চালনায় সভাটি সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা যৌথ কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নে নিয়মিত সমন্বয় সভা আয়োজন, ত্রৈমাসিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং কমিউনিটি সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে একমত হন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ধর্মপাশা উপজেলায় নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।