নির্বাচনোত্তর বাস্তবতা নিয়ে নাগরিক সংলাপ; ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ কাটিয়ে সম্প্রীতির আহ্বান
দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ফেনী গড়তে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকরা। তাদের মতে, রাজনীতি থাকবে—কিন্তু তা হতে হবে শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক চর্চাভিত্তিক। সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখতে পারলে ফেনীবাসী স্বস্তি পাবে এবং গণতন্ত্র হবে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক।
বুধবার বিকেলে ফেনী পৌরসভার কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় “নির্বাচনোত্তর বাস্তবতা: শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সংলাপ। ‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সংলাপের আয়োজন করে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক ফেনী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও পিএফজির আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি-র চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ফেনী জেলা শাখার আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিব উল্যাহ মানিক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রচার সম্পাদক আ.ন.ম আবদুর রহীম।
পিএফজি ফেনীর কো-অর্ডিনেটর মোর্শেদ হোসেনের সঞ্চালনায় সংলাপে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীরা। বক্তারা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, ভীতি ও বিভাজনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
‘ভয়ের সংস্কৃতি’ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, দেশে এখনো নির্বাচন-পরবর্তী ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ বিরাজমান। তিনি বলেন, “নির্বাচনের পর যারা কাজ করছে তাদের নিয়ে আমি বসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু অনেকে ভয়ে বসতে চায়নি। ক্ষমতায় গেলে আমাদের মধ্যে একধরনের কর্তৃত্ববাদী মনোভাব তৈরি হয়। মানুষ তখন শ্রদ্ধা নয়, ভয়ের দৃষ্টিতে তাকায়। এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, এটি কোনো একক দলের সমস্যা নয়; যে-ই ক্ষমতায় যায়, তার মধ্যেই এমন প্রবণতা দেখা যায়। তাই গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
‘রাজপথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজের’ প্রত্যাশা
বিএনপি নেতা শেখ ফরিদ বাহার বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করেছে। এখন ভিন্নভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও স্থানীয় পর্যায়ে ঐক্য ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা জরুরি। তিনি বলেন, “ফেনীর রাজপথে আমরা যেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারি—এটাই প্রত্যাশা।”
গাজী হাবিব উল্যাহ মানিক বলেন, “সরকার বা দল ভুল করলে জনগণ অবশ্যই কথা বলবে, প্রতিবাদ করবে—এটা তাদের অধিকার। বিএনপি জনগণের কষ্ট হয় এমন কিছু করবে না। তবু যদি কোথাও অন্যায় হয়, জনগণ প্রতিবাদ করবেন।”
জামায়াতে ইসলামীর নেতা আ.ন.ম আবদুর রহীমও সামাজিক সম্প্রী