রাজধানীর বনানী থানাধীন বেলতলা বস্তিতে খুররম আলী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দখল রাজত্ব কায়েম ও বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ তুলেছেন বনানী থানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আল মামুন খাঁন। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে খুররমের ভয়ংকর সন্ত্রাসী বাহিনী বনানী এলাকায় অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, খুররম আলী আগে আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বেলতলা বস্তির বাজার ও ময়লা টেন্ডার দখল করেছেন। পাশাপাশি বিএনপির দুঃসময়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ প্রকাশ করেন মোহাম্মদ আল মামুন খাঁন।
পোস্টে মোহাম্মদ আল মামুন খাঁন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর , যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী অ্যামিনুল হকসহ দলটির নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান -এর প্রতি বিষয়টি অবগত করার আহ্বান জানান।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপির নাম ব্যবহার করে খুররম আলী বেলতলা বস্তির প্রায় শতাধিক ঘর দখল করেছেন এবং অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তার ভাষ্যমতে, স্বৈরাচার পতনের পর বিদ্যুৎ খাতে যেখানে বকেয়া ছিল প্রায় ৬০ লাখ টাকা, তা এখন বেড়ে দেড় কোটির বেশি হয়েছে।
এছাড়া মেইন লাইনে হুক লাগিয়ে বিদ্যুৎ চুরি, বস্তির বাজার ও ময়লা টেন্ডার দখল এবং বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তোলা হয় পোস্টে।
পোস্টের এক অংশে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে দুই দিন বিদ্যুৎ না থাকায় ঢাকা-১৭ আসনের দুটি কেন্দ্রে বিএনপির ভোটে প্রভাব পড়ে বলে দাবি করা হয়।
মোহাম্মদ আল মামুন খাঁন বিএনপির নীতিনির্ধারকদের কাছে বিষয়টি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে এসেছে, খুররম বাহিনীর অন্যতম সদস্য বনানী থানা পুলিশের কথিত সোর্স সহিদ। তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই অভিযোগের পাহাড়। সে নিয়ন্ত্রণ করে গোডাউন বস্তির চাঁদাবাজি। সহিদ আগে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার সঙ্গে আঁতাত করে বিএনপি নেতা বনে গেছে। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বস্তিতে নতুন করে জায়গা দখল করে পিকআপ স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছে। সেখান থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা তুলছে। অভিযোগ এসেছে, সহিদ গোডাউন বস্তিতে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ স্থাপন করছে। অন্যদিকে সহিদের একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফারুক অভিযোগ করেন, প্রতিদিন মদ খাওয়ার চাঁদা যোগাতে সহিদ বস্তির ব্যবসায়ীদের হুমকি ধামকি দিয়ে চাঁদা আদায় করে। এছাড়া সহিদ কড়াইল বস্তির মাদক ব্যবসার মহাজন হিসেবে বহুল আলোচিত!
খুররমের আরেক সহযোগী নাম ভাঙারি সানোয়ার। সে আগে ছিল ২০নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুনায়েদ মনিরের ক্যাশিয়ার। বর্তমানে খুররমের আধিপত্য ধরে রাখতে সানোয়ারের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। আরো রয়েছে খুররমের ছোট ভাই অপু।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত খুররম আলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পাওয়া যায়নি।