সুন্দরবনের গহিনে বাঘের থাবায় স্বামী হারিয়েছেন অনেক আগেই। এরপর ললাটে জুটেছে ‘বাঘ-বিধবা’র অপবাদ আর সমাজের অবহেলা। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সেইসব বিষাদময় জীবনে ঈদের আনন্দ যেন ছিল সুদূর পরাহত। তবে এবারের চিত্রটা ভিন্ন। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মাহেন্দ্রক্ষণে খুলনার কয়রা উপজেলার ১৬৫ জন বাঘ-বিধবার ঘরে পৌঁছেছে ঈদের সওদা। উপহার হাতে পেয়ে তাদের চোখেমুখে ফুটেছে এক চিলতে তৃপ্তির হাসি।
রবিবার (৮ মার্চ) সকালে কয়রা কপোতাক্ষ কলেজ চত্বরে এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। আইএফএসডি (IFSD)-এর সহযোগিতায় এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আইসিডি-র বাস্তবায়নে এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে চাল, ডাল, তেল, সেমাই, চিনি, ছোলা ও খেজুরসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
ত্রাণ নিতে আসা হালিমা খাতুন শোনালেন তার বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্প। স্বামী হারিয়ে থমকে না গিয়ে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে চায়ের দোকান দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। হালিমা বলেন,”*আমাদের কেউ খোঁজ নেয় না, সমাজের মানুষ বাঁকা চোখে দেখে। আজ এই উপহার পেয়ে মনে হচ্ছে আমরাও উৎসবের অংশ হতে পারব।”
অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর আমিরুল ইসলাম কাগজী বলেন,”সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারানো পরিবারের নারীরা মানবেতর জীবনযাপন করেন। ছোটবেলা থেকেই তাদের এই কষ্ট দেখে আসছি। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে তাদের স্বাবলম্বী করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।” কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএফএসডির নির্বাহী পরিচালক আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার বিজয়, আইসিডির প্রতিষ্ঠাতা আশিকুজ্জামান আশিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার বক্তব্যে বলেন, বাঘ-বিধবা নারীরা আমাদের সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। তাদের জীবনমান উন্নয়নে প্রশাসন ও বিত্তবানদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা জরুরি।
উপকারভোগীরা ছিলেন ১৬৫ জন বাঘ-বিধবা নারী। উপকরণ: চাল, ডাল, তেল, সেমাই, চিনি, ছোলা, খেজুর। সহযোগিতায়: আইএফএসডি ও আইসিডি।